ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মুখে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় মিত্ররা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে চাপ দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে ডেনমার্কের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
এই সাত দেশের নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল সেখানকার মানুষের। এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের রয়েছে।
গত রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করার পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ট্রাম্প এই অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। এর প্রেক্ষিতে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন সোমবার সতর্ক করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো আক্রমণ চালানো হলে তা সামরিক জোট ন্যাটোর অস্তিত্ব বিলীন করে দেবে।
ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভেনিজুয়েলা শাসন করবে। এর পাশাপাশি ১৮২৩ সালের পুরনো মার্কিন আধিপত্যবাদী নীতিতে ফেরার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন পতাকার রঙে গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র প্রকাশ করে দ্রুত এটি দখলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির সামনে কেউ এই বিষয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
তবে ইউরোপীয় দেশগুলো জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দা ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার পক্ষপাতী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তীব্র বিরোধী।
সূত্র: বিবিসি

