বরগুনার তালতলী উপজেলায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে লামিয়া (১৯) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে মেয়ের পরিবার, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ মাস আগে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের আরিফ বিল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা থাকলেও পরে স্বামীর পরিবার তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর যৌতুকের দাবিতে লামিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে স্বামী তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও সেখানেও অবহেলা অব্যাহত ছিল। এমনকি সংসারের প্রয়োজনীয় খরচও ঠিকমতো দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা চেয়ে ঈদের আগে লামিয়াকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে টাকা দিতে না পারায় স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে লামিয়া।
গত ২২ মার্চ রাতে বাবার বাড়িতে তিনি চাল সংরক্ষণের বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, স্বামী আরিফ বিল্লাহ দাবি করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো যৌতুক দাবি করা হয়নি এবং স্ত্রী সংসার করতে আগ্রহী ছিলেন না।
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

