ইউরোপীয় ইউনিয়ন গোপনে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর)।
গোয়েন্দা সংস্থার বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা তাস নিউজের এক প্রতিবেদনের এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে এসভিআর বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরের অসংখ্য করিডোরে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির উপায় অধ্যয়নের জন্য গোপন কাজ শুরু হয়েছে। ইইউ কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবেই দাবি করছেন, এর একমাত্র লক্ষ্য হলো কাল্পনিক রুশ হুমকিকে প্রতিহত করা। মনে হচ্ছে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং তার সহযোগীরা ইউক্রেন সংঘাতে যুদ্ধরতদের ভূমিকাকে খুবই নগণ্য বলে মনে করছেন। তারা নিশ্চয়ই নাৎসি জার্মানির সেই নেতাদের অশুভ গৌরবের স্বপ্ন দেখছেন, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল।
এসভিআর জোর দিয়ে বলেছে, ইইউ এবং এর কয়েকটি প্রধান সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা রাশিয়ার প্রতি অস্বাভাবিক ঘৃণায় প্রোথিত তাদের উন্মাদনা ও রাজনৈতিক দায়িত্বজ্ঞানহীনতার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছেন। এসভিআর কর্তৃক প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার ব্রাসেলস নেতৃত্বাধীন ইইউ তাদের আরেকটি ‘পূর্বাঞ্চলীয় অভিযান’-এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অনিবার্যভাবে দুর্বল করার এক বিপজ্জনক পথে পা বাড়িয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, ভন ডার লেয়েন ও তার সহযোগীরা প্রথমে এই প্রস্তুতিগুলো যাতে যথাসম্ভব গোপনে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখতে, ব্রাসেলস মার্কিন পারমাণবিক ছাতার ওপর নির্ভর করার তার চিরাচরিত নীতির প্রতি অঙ্গীকার প্রদর্শন করে চলেছে।
ইইউ নেতৃত্ব আশা করছে, এই ধরনের মনোভাব তাদেরকে গোপনে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য জনগণকে প্রস্তুত করতে সময় দেবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এরই মধ্যে, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স তাদের জাতীয় পারমাণবিক মতবাদগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়িয়ে তুলবে। পরবর্তীতে একটি সর্ব-ইউরোপীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ মতবাদকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ফরাসি ও ব্রিটিশ সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন ইইউ দেশগুলোর আর্থিক এবং অবকাঠামোগত অবদানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। এর মধ্যে দিয়ে ইইউ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন পারমাণবিক বাহিনী কমান্ড গঠনের সুযোগ সংরক্ষণ করবে।
রুশ গোয়েন্দা সংস্থার মতে, ইইউ এর এই পরিকল্পনাগুলোর একটি শক্তিশালী শিল্প ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, উল্লেখযোগ্যভাবে, জার্মানি, ইতালি, চেক প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং স্পেনের পারমাণবিক অস্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান তৈরির ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা রয়েছে। এই দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান উৎপাদনের জন্য বেসামরিক ও সামরিক শিল্প সক্ষমতা আছে। তারা অকার্যকর ঘোষিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক জ্বালানি মজুত করে। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য উপযুক্ত প্লুটোনিয়াম নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে এই জ্বালানি গোপনে মজুত স্থান থেকে বের করে আনা যেতে পারে।
এদিকে জার্মান বিশেষজ্ঞরা কার্লসরুহে, ড্রেসডেন, এরলাঙ্গেন এবং জুলিখের গবেষণা পরীক্ষাগারের জ্বালানি প্রকোষ্ঠ থেকে প্রায় এক মাসের মধ্যে একটি পারমাণবিক বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অস্ত্রোপযোগী প্লুটোনিয়াম গোপনে সংগ্রহ করতে সক্ষম, যেখানে গ্রোনাউয়ের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে অস্ত্রোপযোগী ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে তাদের মাত্র এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসন এবং অন্য সকল দেশের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং সম্ভাব্য সবকিছু বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যা অনিবার্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার একটি নতুন পর্বের দিকে নিয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সূত্র: তাস নিউজ।

