মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় ৩০ দিনের জন্য ‘স্টেট অব সিজ’ বা বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রবিববার এই ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো।
পুলিশের ওপর গ্যাং সদস্যদের একের পর এক সমন্বিত হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত আট পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সহিংসতার সূত্রপাত হয় কারাগারকেন্দ্রিক দাঙ্গা থেকে। গত শনিবার গ্যাং সদস্যরা দেশের তিনটি কারাগারে মোট ৪৬ জনকে জিম্মি করেছিল।
প্রেসিডেন্ট আরেভালো জানান, নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব কারাগারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুনরুদ্ধার করেছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অপরাধী গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা জানান, ‘পুলিশের ওপর হামলাগুলো সরাসরি কারাগারের ভেতরের দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত। নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সরকারের এই ঘোষণার ফলে নিরাপত্তাবাহিনী অতিরিক্ত ক্ষমতা পাবে। সংগঠিত অপরাধ ও গ্যাং সহিংসতা দমনে এ পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছিল বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, শনিবার গুয়াতেমালার তিনটি পুরুষ কারাগারে ৪৬ জনকে জিম্মি করার ঘটনায় বারিও ১৮ গ্যাং ও তাদের নেতা আলডো ডুপ্পির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তাবাহিনী ডুপ্পিকে রাখা কারাগারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার সময় গুয়াতেমালা সিটির আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালায় তার গ্যাং সদস্যরা। পরে আলডো ডুপ্পিকে আবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

