যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে তথ্য পাঠানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রবিবার (২৪ মে) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোজতবা কিয়ান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো- তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে সরবরাহ করতেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তে জানা যায়, যুদ্ধ চলাকালে মোজতবা কিয়ান জায়নবাদী-আমেরিকান শত্রু-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে একাধিক বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ তৈরির বিভিন্ন ইউনিটের অবস্থান ও বিস্তারিত তথ্য দেন। কিয়ান স্বীকার করেন, একটি নেটওয়ার্কে বার্তা পাঠানোর পর তাকে একটি নম্বর দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি তথ্য পাঠাতেন। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিয়ান তথ্য পাঠানোর তিন দিনের মাথায় ওই স্থানটিতে শত্রুপক্ষ হামলা চালায় এবং সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
এর ১০ দিন আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য বিক্রির দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ কথা জানিয়েছে।
এদিকে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন ধরনের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল নিয়ে সামনে এসেছে ইরান। ভুয়া চাকরির অফার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো অল্টো নেটওয়ার্কস এর গবেষণা ইউনিট ৪২ এর তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএন জানায়, ইরানি হ্যাকাররা রিক্রুটার সেজে এভিয়েশন খাতের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের ফাঁদে ফেলছে। একই সঙ্গে মার্কিন তেল গ্যাস কোম্পানি এবং ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংস্থাকেও টার্গেট করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, হ্যাকাররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একেবারে বাস্তব কোম্পানির মতো ভুয়া চাকরির বিজ্ঞপ্তি তৈরি করছে। এতে আকৃষ্ট হয়ে প্রার্থীরা যোগাযোগ করলে তাদের একটি ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ব্যবহার করতে বলা হয়। ওই অ্যাপের মধ্যেই আগে থেকে ম্যালওয়্যার সংযুক্ত থাকে, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সাইবার অভিযানের মাধ্যমে বিমান চলাচল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন ফ্লাইট তালিকা ও যাত্রীদের তথ্য পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে ইরান। পাশাপাশি তেল গ্যাস কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নজরদারির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার সম্পর্কে আগাম ধারণা নেওয়াও এর লক্ষ্য হতে পারে। সূত্র: খালিজ টাইমস, রয়টার্স

