নওগাঁয় স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে মিশ্র পদ্ধতিতে এই মাছ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন রাজু সরদার। তার দেখাদেখি অন্য মাছ চাষিরা গলদা চিংড়ি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। রাজু সরদারের বাড়ি সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামে। রাজু সরদার পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই কার্প জাতীয় মাছ চাষ করছেন। তবে প্রচলিত চাষে লাভ সীমিত হওয়ায় নতুন কিছু করার চিন্তা থেকে গলদা চিংড়ি চাষের সিদ্ধান্ত নেন।
গত জুন মাসে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর মৎস্য খাতের আওতায় উত্তম ব্যবস্থাপনায় গলদা চিংড়ি চাষ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর সুযোগ পান। প্রদর্শনীর আওতায় তাকে ৫০০ পিস গলদা চিংড়ির জুভেনাইল সরবরাহ করা হয়। এরপর নিজের উদ্যোগে আরও এক হাজার পিস জুভেনাইল সংগ্রহ করে মিশ্র পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন। পুকুরে নিয়মিত পানির গুণগতমান পরীক্ষা, সুষম খাদ্য সরবরাহে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই অভাবনীয় সাফল্য পান রাজু সরদার।
রাজু সরদার বলেন, ‘গলদা চিংড়ি খুবই সংবেদনশীল। পানির মান ঠিক না থাকলে সমস্যা হয়। তাই নিয়মিত নজরদারি করেছি। এই যত্নের ফল মিলতেও বেশি সময় লাগেনি। অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই গলদা চিংড়িগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৭ থেকে ৮টি গলদা চিংড়ি পাওয়া যাচ্ছে। যা স্বাদু পানিতে চাষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সন্তোষজনক ফলাফল। এখান থেকে প্রায় ১৩০ কেজি গলদা চিংড়ি উৎপাদন হবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গলদা চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাম পাব বলে আমি আশাবাদী। কার্প মাছের পাশাপাশি গলদা চিংড়ি চাষ করায় একই পুকুর থেকে দ্বিগুণ লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
স্থানীয় মাছ চাষি চপল ও সাইফুল বলেন, ‘আগে স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ নিয়ে ভয় ও সংশয় ছিল। আমরা আগে ভাবতেই পারিনি গলদা চিংড়ি পুকুরে চাষ করা সম্ভব। রাজু সরদারের সাফল্য দেখে আমরাও এরই মধ্যে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেছি।’
মৌসুমীর মৎস্য কর্মকর্তা শাহারিয়ার হোসেন বলেন, রাজু সরদারের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি একটি সম্ভাবনার গল্প। নওগাঁয় কার্প জাতীয় মাছের সঙ্গে গলদা চিংড়ি চাষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাড়বে মাছ উৎপাদন, শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি। পিকেএসএফের সহায়তায় রাজু সরদারের সাফল্য দেখে এরই মধ্যে অনেকেই গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেছে। রাজু সরদারের এই সাফল্য অন্য চাষিদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

