গর্ভবতী মায়েদের জন্য পাঁচ স্বাস্থ্যকর টিপস

0
গর্ভবতী মায়েদের জন্য পাঁচ স্বাস্থ্যকর টিপস

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের এক বিশেষ ও আনন্দময় সময়। এ সময়ে মা ও অনাগত শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই সময়টায় সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদ রেণুকা বাচভ এইচটি লাইফস্টাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গর্ভবতী মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এসব পরামর্শ মেনে চললে মা ও সন্তান—দুজনেরই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

পুষ্টিকর খাবার

গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শস্যজাত খাবার, চর্বিহীন প্রোটিন (যেমন মাছ ও মুরগি), প্রচুর ফল ও শাকসবজি এবং দুগ্ধজাত পণ্য রাখা উচিত। এসব খাবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার সরবরাহ করে, যা মা ও শিশুর জন্য উপকারী।

ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন নিশ্চিত করা

গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলিক অ্যাসিড শিশুর মেরুদণ্ডের সঠিক গঠনে সহায়তা করে, আর আয়রন রক্তাল্পতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। শাকসবজি থেকে ফলিক অ্যাসিড এবং মাংস থেকে আয়রনের ভালো উৎস পাওয়া যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান

দিনভর পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। এতে শিশুর চারপাশে থাকা অ্যামনিয়োটিক তরলের সঠিক মাত্রা বজায় থাকে। এ সময় ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে ভেষজ চা পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নেওয়া

শক্তি ধরে রাখতে গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর স্ন্যাকস খাওয়া প্রয়োজন। বাদাম, দই ও ফল ভালো বিকল্প হতে পারে। এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ওজন সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে।

খাদ্য নিরাপত্তায় সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় আধা সিদ্ধ মাংস, অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত খাবার এবং কাঁচা সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিলে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা আরও সহজ হয় এবং অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here