গরমে সবজির দাম আরও বেড়েছে। বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের সবজির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, প্রচ- গরমে পরিবহনে ও পাইকারি মোকামে সবজি নষ্ট হচ্ছে। চাষিদের খেতেও সবজি নষ্ট হচ্ছে। এতে বাজারে সবজি সরবরাহ কমেছে। তাই দাম বেড়েছে।
গতকাল সরেজমিনে রাজধানীর বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়। মালিবাগ বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হানিফ মাহমুদ বলছিলেন, অতিরিক্ত গরমের অজুহাতে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। এখন বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। অতিরিক্ত গরমে আমাদের মতো মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছে, অন্যদিকে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় এই কষ্ট যেন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা কাউসার মাহমুদ বলেন, তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। প্রচ- গরমে পরিবহনে ও পাইকারি মোকামে সবজি নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে ঢাকায় সবজির সরবরাহ কমেছে। যার প্রভাবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্য সবজি বিক্রেতারা বলেন, মূল কারণ অতিরিক্ত গরমে সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খেত থেকে ফসল তুলতে পারছে না কৃষক, আবার ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়া ঠেকাতে বারবার সেচ দেওয়া লাগছে জমিতে। যে কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা, ৭০০/৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। রূপচাঁদা ১২০০ টাকা, বাইম মাছ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, দেশি কই ১২০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৬০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৬০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, মাগুর মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০ টাকা এবং কাইক্কা মাছ ৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কাতলা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, চাষের শিং মাছ (আকারভেদে) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙাশ ২১০ থেকে ২৩০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কই মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।