সীমিত ওভারের ক্রিকেটে টানা সাফল্যের পর এবার টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্যই ভারতের পরবর্তী লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরে রাখা এবং গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর তিনি এখন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছেন।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এখনও ভারতের অধরা। প্রথম দুই আসরে তারা ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। প্রথমবার নিউ জিল্যান্ডের কাছে এবং দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় ভারত। সবশেষ আসরে আবার ফাইনালেও উঠতে পারেনি দলটি।
চলতি চক্রেও ভারতের অবস্থান খুব একটা শক্ত নয়। ৯ ম্যাচে মাত্র ৪টি জয় নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় তারা বর্তমানে ছয় নম্বরে রয়েছে। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও ভারতের অবস্থান চতুর্থ।
গম্ভীর কোচ হওয়ার পর টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হার এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে বাজেভাবে সিরিজ হার, সব মিলিয়ে চাপে পড়েছিলেন তিনি। যদিও ইংল্যান্ড সফরে পিছিয়ে থেকেও সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয় ভারত।
এই ব্যর্থতার কারণে এক সময় গাম্ভিরের কোচের পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বড় সাফল্যের কারণে আপাতত সেই চাপ কাটিয়ে উঠেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাম্ভির বলেন, টেস্ট ক্রিকেট তার হৃদয়ের খুব কাছের একটি সংস্করণ।
গম্ভীর বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট আমার হৃদয়ের খুব কাছের। এই সংস্করণটাকে আমি ভীষণভাবে লালন করি। আশা করি আমরা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারব। এটিই এখন আমার পরবর্তী লক্ষ্য।’
তিনি আরও জানান, সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচ রয়েছে এবং দলটি একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গাম্ভির বলেন, ‘আমাদের সামনে আরও কয়েকটি ম্যাচ আছে। লাল বলের ক্রিকেটে আমরা একটি পালাবদলের সময় পার করছি। সাদা বলের ক্রিকেটের তুলনায় এখানে কাজটা অনেক কঠিন। দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার আছে, তাদের ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে।’
নতুন অধিনায়ক শুবমান গিলের নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। গম্ভীরের মতে, দলের ভেতরে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করার তীব্র আগ্রহ রয়েছে।
তার ভাষায়, ‘ড্রেসিং রুমে প্রায় সবাই টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে চায়। কারণ এখানে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি কিংবা ট্রিপল সেঞ্চুরি করার সুযোগও টেস্টেই পাওয়া যায়।’
গাম্ভির মনে করেন, পাঁচ দিনের কঠিন লড়াইয়ের পর একটি টেস্ট জয়ের আনন্দই আলাদা।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের পর যখন একটি টেস্ট জয় আসে, তার চেয়ে বড় তৃপ্তি খুব কমই আছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বা ওয়ানডে, সবকিছুর পরও টেস্ট ক্রিকেটের আনন্দ আলাদা।’

