গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ

0
গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরা হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এই শোকজ নোটিশ দেয় সংস্থাটির মানবসম্পদ বিভাগ। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে এই শোকজ নোটিশ জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জবাব পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। দশ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলে তাদের সরকার গঠনের কথা। এমন সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবেদন করা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন হয়ে যাচ্ছে এমন একটি আলোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে আসে। ওইদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকে সংবাদ সম্মেলন করে সেখানকার কর্মীদের একটি অংশ। 

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন এবং কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি সর্বদলীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে। নীল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এ ঐক্যের সমন্বয়ক করা হয়েছে নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউ-এর ডেপুটি হেড মফিজুর রহমান খান চৌধুরীকে। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাকে দেখা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ ব্যাংক খাত নিয়ে গভর্নরের খেয়ালিপূর্ণ বক্তব্য বন্ধ করা এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, অপেক্ষাকৃত কম দুর্বল এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।

কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন চাই। তবে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানের জন্য, ব্যক্তির জন্য নয়। স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন। গভর্নর স্বৈরাচার হয়ে উঠেছেন বলেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন করেছি।

বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা নীরব ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুম বিল্লাহ বলেন, আগে বলিনি বলে এখন প্রশ্ন তুলছেন। এখনো না বললে ভবিষ্যতেও প্রশ্ন তুলবেন। আমরা এই দায় বহন করতে চাই না।

নওশাদ মোস্তফা বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান না ঘটলে হয়তো আমরা এতটা খোলামেলাভাবে কথা বলতাম না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন, সভা বা বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। এ ছাড়া গভর্নর বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার সুযোগ রয়েছে; এভাবে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ নেই।

সূত্র: বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here