বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একদফা আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের বিকল্প কোনো পথ নেই। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিকে ক্ষমতায় আনতে এই দাবি আদায়ে আজ সমগ্র জাতি সরকার পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধ। আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হবে। এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। গণতন্ত্রের পথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সবচেয়ে বড় অন্তরায় বলে উল্লেখ করেন দলের এই নীতি-নির্ধারক।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে হোটেল সিক্স সিজনে “পঞ্চদশ সংশোধনী’র সাংবিধানিকতা : নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনো সংবিধান সম্মত” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, শিরিন সুলতানা প্রমুখ অংশ নেন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা হাসনাত কাইয়ুম, বিপ্লবি ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ব্যাপারীসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও আই আর আই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০৬ সালে বিরোধী দলের নেত্রী থাকা অবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি বক্তব্য রেখেছিলেন-‘সংবিধানের ধারা অব্যাহত রাখতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান কার্যকর করতে হবে’ সংস্কারের কথা বলে তিনি সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেছিলেন। তবে আজ কেন তত্ত্বাবধায়ক দিতে তার এতো আপত্তি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যতই আপত্তি তুলুক, আমরা দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দল আজ একই দাবিতে একমত হয়েছি। আমরা সরকারের পদত্যাগ চাই। এই সংসদের বিলুপ্তির মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর চাই। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে-জনগণের সামনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরা।
বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, আজ এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাকশাল কায়েম করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়কের দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাওয়া। কারণ, নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রতিনিধিদের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। অথচ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যারা সরকার গঠন করেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম এই দাবি তারাই তোলে। এরপরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে তারা রাজপথে আন্দোলন করা হয়। অথচ ভোট চুরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারাই এখন তত্ত্ববধায়কের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আসলে এই সরকার কখনই সহজে দাবি মেনে নেবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়কের দাবি আদায় করে নিতে হবে। তাছাড়া রাজনৈতিক সমাধান কখনো আদালতের মাধ্যমে হয় না, রাজপথেই হয়। তাই রাজপথ ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই, সবাইকে একসঙ্গে নামতে হবে। ভাগাভাগি, লাভ-লোকসান নিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। অর্জনের আগে ভাগ হয় না। তাই এসি রুমে বসে আওয়াজ তুলে কোনো লাভ নেই। আজ-জনগণের দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। এই দাবি নিয়ে একসঙ্গে মাঠে নামতে পারলে কেউ আমাদের রুখতে পারবে না।