জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা শহীদদের শনাক্তকরণ কার্যক্রমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাসিন্দা সোহেল রানাসহ আটজন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনাক্ত হওয়া শহীদ সোহেল রানা লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি গত বছরের ১৮ জুলাই ছাত্র–জনতার আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তবে ঘটনার সময় পরিবারের অজান্তে তার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে রায়েরবাজারের গণকবরে দাফন করা হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন সবার বড়। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। তিন দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে জানতে পারেন, তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সোহেলের ভাই জুয়েল ও নাবিল বলেন, শাহবাগ থানা থেকে তাদের জানানো হয়, শারীরিক নির্যাতনের পর কাজলা এলাকায় সোহেল রানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল। মৃত্যুসনদ ও সংশ্লিষ্ট জিডির কপি পেলেও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি দীর্ঘদিন।
দীর্ঘ ১৭ মাস পর সন্তানের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ সোহেল রানার মা ও পরিবারের সদস্যরা। কবরস্থানে উপস্থিত স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
সিআইডি জানায়, এ কার্যক্রমে আরও যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, তারা হলেন—ফয়সল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম (২৫), আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির মাধ্যমে নমুনা বিশ্লেষণ করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান।

