খেলা শেষে কাঁদলেন দিয়াজ

0
খেলা শেষে কাঁদলেন দিয়াজ

অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার মধ্যে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (এএফকন) শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে দুই দলের শিরোপা লড়াই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সমতা, তারপর ইনজুরি টাইমে এমন এক মুহূর্ত আসে—যা ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারত। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার এই ট্রফি পাওয়ার আক্ষেপ মরক্কোর ৫০ বছরের। হয়ত একটি সফল স্পট কিকেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারতেন ব্রাহিম দিয়াজ। 

১২ গজ দূর থেকে দিয়াজের পা থেকে আসতে পারত শিরোপা নিশ্চিত করা গোল। কিন্তু যা ঘটল, তা অবিশ্বাস্য। ব্রাহিম জোরালো শট না নিয়ে মাঝখানে হালকা ‘প্যানেনকা’ চেষ্টা করেন। সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি সহজেই তা ঠেকিয়ে দেন। সেই একটি মুহূর্তই যেন বদলে দেয় পুরো ম্যাচের গল্প। 

দিয়াজের ওই ব্যর্থতার সুযোগই কাজে লাগায় সেনেগাল। পেপ গুইয়ের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা উল্লাসে মাতে তারা। মাঠজুড়ে তখন আনন্দের জোয়ার, আর অন্য প্রান্তে দিয়াজের মুখে স্পষ্ট হতাশা—যেন একটি সিদ্ধান্তেই বদলে গেল পুরো টুর্নামেন্টের পরিণতি।

টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। দলকে ফাইনালে তুলতে অবদান রেখেছেন পাঁচ গোল করে। কিন্তু এদিন ‘পানেনকা’ শট নিতে গিয়ে ধরা পড়েন মেন্দির হাতে। পেনাল্টি শুটের সময় নিজের অবস্থান থেকে সরেননি মেন্দি, যে কারণে খুব সহজে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন ভিয়া রিয়ালের এই গোলকিপার।

পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার পর বিচলিত ছিলেন দিয়াজ। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা গেছে মরক্কোর বেঞ্চে চোখ ছলছল করছিল কারও কারও। ফাইনাল শেষে শিশুর মতো কেঁদেছেন দিয়াজও। টুর্নামেন্টের সেরা গোলস্কোরারের পুরস্কার যখন নিতে যাচ্ছিলেন পা এগোচ্ছিলো না যেন; দুই দলের খেলোয়াড়েরা করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান, ঠোট চেপে কান্না লুকানোর চেষ্টাই কেবল করেছেন দিয়াজ।  

ওই পেনাল্টি নিয়ে আপত্তি ছিল সেনেগালের। বেশিরভাগ খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। স্পট কিক নিতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা দিয়াজকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ১৭ মিনিট। ম্যাচ শেষে ওই ঘটনাকে ইঙ্গিত করে মরক্কোর ম্যানেজার ওয়ালিদ রেগ্রাগুই বলেন, ‘পেনাল্টি নেওয়ার আগে অনেক সময় পার হয়েছে, যা তাঁকে (দিয়াজ) বিরক্ত করেছিল। কিন্তু যা ঘটেছে তা আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। এভাবেই সে পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে।’

খেলোয়াড়দের এসব নিয়ে পড়ে থাকার সময় নেই। অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াতে চাইবেন দিয়াজ। তবে সেটি মোটেও সহজ হবে না তা বলাই যায়। তার জন্য কী অপেক্ষা করছে সেসবের কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে মরক্কোর সাবেক মিডফিল্ডার হাসান কাচলুলের কথা থেকে, ‘আমি মনে করি ব্রাহিম দিয়াজ আগামী দিনে অনেক দুঃস্বপ্ন দেখবেন।’ 

নাইজেরিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল আমোকাচি বলেন, ‘ব্রাহিম দিয়াজ এই টুর্নামেন্টে পাঁচটি গোল করা সত্ত্বেও নিজের সমস্ত গৌরবময় মুহূর্ত নষ্ট করে দিয়েছেন।’আরেক নাইজেরিয়ান সাবেক মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেল বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে দিয়াজের যত কিছু ভালো ছিল সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে বিধ্বস্ত। সামনের সময়টা তার জন্য কঠিন হতে চলেছে- কয়েক সপ্তাহ, হয়ত মাসের পর মাস ধরে।’

নাইজেরিয়ার আরেক সাবেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইফান একোকু বলেন, ‘এটা এমন একটি মুহূর্ত যা ব্রাহিম দিয়াজ কখনই কাটিয়ে উঠতে পারবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here