বিশ্বকাপের প্রথম দিন। আলাদা দুই মাঠ, আলাদা দুই প্রতিপক্ষ। অথচ আশ্চর্য মিল নিয়ে একই গল্প লিখল পাকিস্তান ভারত। রাজনৈতিক বৈরিতার বাইরে গিয়ে ক্রিকেটের মাঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যেন হয়ে উঠল একই বৃন্তে দুটি ফুল। নেদারল্যান্ডস আর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারের শঙ্কা থেকে ফিরে এসে জয় তুলে নেওয়ার পথে দুই দলকে এক ছাতার নিচে এনে দিল মাত্র দুটি ঘটনা, দুটি ক্যাচ মিস।
পাকিস্তান ভারতের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তপ্ত। তবে মাঠে সেই উত্তাপ কিছুদিন আগেও এতটা চোখে পড়েনি। বাবর আজম মোহাম্মদ রিজওয়ানদের সঙ্গে বিরাট কোহলি রোহিত শর্মাদের হাসিমুখের ছবি একসময় নিয়মিত দেখা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৃশ্য বদলেছে। এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হলেও সালমান আলী আগা সূর্যকুমার যাদব একবারও হাত মেলাননি। বাইরে সাবেক ক্রিকেটারদের কথার লড়াইও চলছে। এমন আবহেই বিশ্বকাপের প্রথম দিনে মাঠে নামে দুই দল।
সূচির মিল ছিল আগেই। বিশ্বকাপের শুরুতেই খেলতে নামে পাকিস্তান ভারত। প্রতিপক্ষও প্রায় একই মানের, সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডস-যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ম্যাচের ভেতরের চিত্র অবাক করার মতো কাছাকাছি হয়ে যায়।
কলম্বোয় নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানে আটকে দিয়ে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল দুর্দান্তভাবে। ৬ ওভারে ৬১, ১০ ওভারে ৯০ রান। মনে হচ্ছিল বড় জয় আসছে। ঠিক তখনই ধস। ৯৮ রানে দুই উইকেট থেকে মাত্র ১৬ রানের মধ্যে পড়ে যায় আরও পাঁচটি উইকেট। ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।
সেখান থেকে পাকিস্তানকে টেনে তোলেন ফাহিম আশরাফ। ১১ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে তিন উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পায় তারা। তবে এই ইনিংসের মোড় ঘুরে যায় ১৯তম ওভারে। তখন ফাহিমের ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ম্যাক্স ও’ডাউড। ক্যাচটি মিস হয়। আগের বলে ছক্কা হাঁকানো ফাহিম এরপর আরও দুটি ছক্কা মারেন। ওই ওভারেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের জয়।
ভারতের গল্পও প্রায় একই। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৭৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তখন দলের ভরসা হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ভারত পৌঁছে যায় ১৬১ রানে, পরে জিতে নেয় ২৯ রানে।
সূর্যকুমারও পেয়েছিলেন এক জীবন। তখন তার রান ছিল ১৫। শুভম রাঞ্জানের বলে ফিরতি ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু রাঞ্জান ধরতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের ৩২ বলে যোগ করেন আরও ৬৯ রান। ওই ইনিংসই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
দুটি ম্যাচে দুটি ক্যাচ মিস। দুটি নায়কোচিত ইনিংস। আর তাতেই বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই এক সুতোয় গাঁথা পড়ে গেল পাকিস্তান ভারত। মাঠের ভিন্নতা থাকলেও গল্পটা হয়ে উঠল প্রায় এক।

