আখতার রাফি: ঢাকা-১৩ আসনে কোনো প্রার্থী পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো ফেভার পাবে না এমন বক্তব্য দিয়ে আবারও প্রশংসায় ভাসছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মূলত ভোটের অধিকার না থাকার কারণে। একইভাবে ২০২৪ সালের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেটিও হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার দাবিতে। এই জায়গায় আমরা, অর্থাৎ আমাদের এই পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছিলাম। আমরা মনে করি, জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আপনারা যারা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে চেনেন, তারা জানেন যে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি ন্যূনতম কোনো পক্ষপাত বা ছাড় দিই না। ইনশাআল্লাহ, আজ এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলতে পারি, ঢাকা-১৩ আসনে কোনো প্রার্থী পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো ফেভার পাবে না। আপনারা এটি লিখে রাখতে পারেন।
এডিসি জুয়েল বলেন, এখনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়নি। এর মধ্যেই কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে, যেগুলো আমি আবেদন হিসেবে বিবেচনা করছি। এর মধ্যে একটি হলো প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনারা ইতোমধ্যে জানেন, যেহেতু আমি এই সংসদীয় আসনের পুলিশের মূল দায়িত্বে থাকব, তাই সকল প্রার্থীকে নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করেছি। সেখানে সব প্রার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ কর্মকর্তা, আমাদের সহায়ক বাহিনীর কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও সেখানে যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে আপনাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকবে। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রার্থীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে—দিন-রাত যেকোনো সময়, ২৪ ঘণ্টা, আপনার প্রয়োজন হোক বা না হোক, যেকোনো কারণেই হোক, আপনারা আমাদের ফোন করবেন। আমাদের ফোন খোলা থাকবে। আপনারা যখন যেখানে নিরাপত্তার প্রয়োজনে ডাকবেন, আমরা সেখানে উপস্থিত হব, ইনশাআল্লাহ। এটি আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি একটি স্পষ্ট নিশ্চয়তা।
প্রার্থীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দেখছি, নির্বাচনী আচরণবিধি এতটাই কঠোরভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে যে অনেক সময় মনে হয় হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দিয়ে সাতরাতে বলা হচ্ছে। যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয় আইন, এটি আমরা কেউই পরিবর্তন করতে পারব না। তবে এর মধ্যেই আমরা আশা করব, আপনারা সর্বোচ্চ প্রচারণা চালাবেন।’
তিনি বলেন, আমাদের এখানে দুটি দায়িত্ব রয়েছে। একটি হলো জনগণের হাতে ভোটের অধিকার পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করানোর মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটদের নয়; এই দায়িত্ব সকল প্রার্থীর।

