কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্ব। এই পরিবর্তন সবার জন্য সুখবর নাও হতে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান।
নয়াদিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ তিনি বলেন, এখন সফটওয়্যার তৈরি আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত। এতে কিছু সফটওয়্যার কোম্পানির জন্য সময়টা ‘খুব খারাপ’ হতে পারে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শক্তিশালী সেবা ও আলাদা মূল্য আছে, তারা লাভবানও হতে পারে।
সম্প্রতি ওপেনএআই ‘ফ্রন্টিয়ার’ নামে একটি এন্টারপ্রাইজ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এটি বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের ইন্টেলিজেন্স লেয়ার। এর মাধ্যমে একাধিক এআই এজেন্ট জটিল কাজ করতে পারে। এই প্ল্যাটফর্ম ডেটা ভাণ্ডার, সিআরএম টুল ও অভ্যন্তরীণ অ্যাপ একসঙ্গে যুক্ত করে কাজ করে।
এই সেবা ব্যবহার করছে এইচপি, ইনটুইট, ওরাকল, স্টেট ফার্ম, থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক ও উবার। পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত হয়েছে বিবিভিএ, সিসকো ও টি-মোবাইল। ওপেনএআইয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সারা ফ্রায়ার জানান, তাদের ব্যবসার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন এন্টারপ্রাইজ গ্রাহক থেকে আসে। লক্ষ্য এটি ৫০ শতাংশে নেওয়া।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড কোওয়ার্ক’ নামের এআই এজেন্টও বাজারে এসেছে। এটি নিজে নিজে ফাইল সামলাতে, রিপোর্ট বানাতে ও একাধিক ধাপের কাজ করতে পারে। এর পর থেকেই সফটওয়্যার শেয়ারের দাম কমতে শুরু করেছে। আইশেয়ার্স টেক-সফটওয়্যার ইটিএফ ২০২৬ সালে ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। সেলসফোর্স ৩০ শতাংশ ও অ্যাডোবি ২৭ শতাংশ কমেছে। এমনকি মাইক্রোসফটও বাজারমূল্য হারিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ‘সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস’ থেকে ‘সার্ভিস অ্যাজ সফটওয়্যার’-এ যাওয়ার সময়। অল্টম্যান বলেন, বর্তমান গতিতে চললে কয়েক বছরের মধ্যেই সত্যিকারের সুপার ইন্টেলিজেন্স আসতে পারে।

