কেমন ছিল ‘ স্যাইকো সম্রাট’ ওরফে সবুজ শেখের অতীত

0

আখতার রাফি : সাভারে ভবঘুরে ছদ্মবেশে সাত মাসে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সবুজ শেখের বিরুদ্ধে আগেও হত্যার অভিযোগ ছিল। দুটি মাদক মামলারও আসামি ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, সবুজ শেখের বিরুদ্ধে নতুন করে তিনটি মামলার খোঁজ পেয়েছি আমরা।

এরমধ্যে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে সাভার মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা এবং ২০১৪ সালে সাভারের শাপলা হাউজিং এলাকায় জুবায়ের ওরফে শাওন (৩০) নামে একজনকে হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে।

মো. হেলাল উদ্দিন আরও জানান, ২০১৪ সালে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি ছিলেন সবুজ শেখ।

ওই মামলায় তার নাম লেখা ছিল সম্রাট ওরফে টাইগার সম্রাট। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তারপর কীভাবে তিনি কারগার থেকে বের হলেন সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য এই মূহূর্তে তার কাছে নেই।

মামলাটিতে ওই বছরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালীন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জামান আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও হত্যার শিকার ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ওই সময় পুলিশ মৃতদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করে, পরে তদন্তে শুধু নামই জানতে পারে।’

সবুজ ছাড়াও ওই মামলায় আরও তিন আসামি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক ও হত্যাসহ তিন মামলায় ভিন্ন ভিন্ন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেছেন সবুজ শেখ। তবে কোনো মামলাতেই বাবার নাম পরিবর্তন করেননি।
তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দুটি মাদক মামলায় কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজার এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করেছেন সবুজ। অন্যদিকে ২০১৪ সালে হত্যা মামলায় তার ঠিকানা দেওয়া রয়েছে রাজধানীর আরমানিটোলা এলাকা।

মো. হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, বার বার ঠিকানা পরিবর্তনের এ তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ছয় খুনের আসামি সবুজ শেখ অনেক আগে থেকেই ভাসমান জীবনযাপন করছেন।’

গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জেও সবুজ শেখের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। যদিও লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ওই থানায় সবুজ শেখের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছেন।

তিনটি মামলা থাকা সত্ত্বেও সবুজ ওরফে টাইগার সম্রাটকে শনাক্ত করতে পুলিশ কেন হিমশিম খেলো এমন প্রশ্নের জবাবে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, শুধু আমরা নই, এলাকার আশেপাশের সবাই তাকে পাগল বলেই জানত।
জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার সাভারের পরিত্যক্ত একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সবুজ শেখ ওরফে মশিউর রহমান সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে, সাত মাসে একে একে ছয়জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন সবুজ শেখ। প্রতিটি হত্যাকে তিনি বলেন ‘থার্টি ফোর’।

স্বীকারোক্তিতে ছয়জনকে ‘থার্টি ফোর’ করেছেন এমনটাই বলেন ওই আসামি।
২০২৫ সালের ৪ জুলাই থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পাঁচটি পৃথক মামলা হয়েছে সাভার মডেল থানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here