কেন ট্রাম্পকে সাহায্য করতে আসেনি পশ্চিমা মিত্ররা, জানা গেল আসল কারণ

0
কেন ট্রাম্পকে সাহায্য করতে আসেনি পশ্চিমা মিত্ররা, জানা গেল আসল কারণ

হরমুজ প্রণালিকে ‘মুক্ত’ করতে ন্যাটো সামরিক জোট ও পশ্চিমা মিত্রদের সহায়তা চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদেরকে হুমকি-ধমকিও দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে। তাতেও কাজ হয়নি। ইরানের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত যুদ্ধে মার্কিন মিত্ররা কোনওভাবেই জড়াতে চায়নি।

কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে কেন তারা ট্রাম্পকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেল আসল কারণ।

প্রতবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ। কারণ গত কয়েক বছরে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জই ঠিকঠাক মোকাবিলা করতে পারেনি তারা। হুথিদের হামলায় সেখানে অন্তত চারটি জাহাজ ডুবে গেছে। অস্ত্রশস্ত্রে ব্যয় হয়েছে বিলিয়ন ডলার। এরপরও লোহিত সাগরকে ঝুঁকিমুক্ত করা যায়নি। বেশিরভাগ শিপিং কোম্পানির জাহাজ সেই রুট এখনও এড়িয়ে চলে।

সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির কাছে নাস্তানাবুদ হওয়া পশ্চিমা দেশগুলো সে কারণেই হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি বুঝতে পারছে। ট্রাম্পের কথা মতো এখন হরমুজ ‘মুক্ত’ করার মিশনে যোগ দেওয়া যে আরেকটি দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ার নামান্তর, তা ঠিকই আঁচ করতে পেরেছে তারা।

এই ইস্যুতে ১৯ জন নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তারা হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন। ইরানের সামরিক শক্তি হুথিদের তুলনায় অনেক উন্নত। তাদের কাছে সস্তা ড্রোন, ভাসমান মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। এছাড়া তাদের খাড়া পাহাড়ি উপকূল থেকে এই সংকীর্ণ জলপথে সহজে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন ট্যাংকার এসকর্টে যুক্ত থাকা অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়া লোহিত সাগরের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।”

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হুথিদের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশন শুরু হয়। কয়েক মাসের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোও অভিযানে যোগ দেয়। সে সময় শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পরও ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হুথিরা চারটি জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সমর্থ হয়। ফলে একসময় বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশ যে নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হতো, সেই পথ এখন বেশিরভাগ জাহাজই এড়িয়ে চলে। এর পরিবর্তে জাহাজগুলো আফ্রিকার শৃঙ্গ ঘুরে দীর্ঘ পথ বেছে নিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির বিপদসীমা ইয়েমেনের বাব আল মানদেবের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। আর হুথিদের বিপরীতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি পেশাদার বাহিনী, যার নিজস্ব অস্ত্র কারখানা ও অর্থায়নের উৎস রয়েছে।

আর এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের হরমুজ মিশনে যোগ দেওয়ার চেয়ে বরং উত্তেজনা হ্রাসের দিকে মনোযোগী হয়েছেন পশ্চিমা নেতারা। ইরান যুদ্ধের স্থায়িত্ব বাড়লে যে বড় অর্থনীতিগুলোকেই দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য চুকাতে হবে, সে বিষয়টি পশ্চিমাদের ভাবাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here