কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় ‘আদর্শ বীজতলা’

0
কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় 'আদর্শ বীজতলা'

প্রযুক্তিগত সহায়তায় দিনাজপুরে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষি। এতে লাভবান হচ্ছেন এলাকার উদ্যমী কৃষক। ফলে দিন বদল হচ্ছে কৃষকদের, গতি সঞ্চার হচ্ছে কৃষি অর্থনীতির। কৃষিক্ষেত্রে যোগ হওয়া এমনই এক প্রযুক্তি আদর্শ (কমিউনিটি) বীজতলা। 

শ্রম, স্থান, সেচ খরচও কম লাগে এবং ভালো মানের চারা পেতে কৃষকরা ঝুকেছে আদর্শ বীজতলা তৈরীতে। তাই শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে জেলার ঘোড়াঘাট, বিরল, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বীজতলা তৈরী ও চাষে কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আদর্শ বীজতলা তৈরীতে ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ভাগ কমে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন উপজেলায় ইরি-বোরো ধান রোপনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আদর্শ (কমিউনিটি) বীজতলা। এখন শীতের কবল হতে রক্ষা করতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। পুরোনো পদ্ধতির বীজতলার পরিবর্তে এখন আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস জানায়, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিতে শ্রম, স্থান, সেচ খরচও কম লাগে এবং ভালো মানের চারাও পাওয়া যায়। তাই ফলনও ভালো পাওয়া যায়। আদর্শ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে শুকনা জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়। জমি প্রস্তুত হলে ১ মিটার প্রস্থ, ৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রতি বেডের মাঝে ৫০ সে.মি. নালা রেখে বীজতলা তৈরী করতে হবে। মানসম্মত বীজ ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেগুলো বীজতলায় ছিঁটিয়ে হয়। বীজ ছিঁটানোর ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে চারাগুলো রোপণের উপযুক্ত হয়।
ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়নের কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুরোনো পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও শীতকালীন বালাই মোকাবিলা করতে হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা যায়। 

বিরল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা শাহজাহান আলী জানান, আদর্শ বীজতলায় স্বল্প খরচে সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন ও কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি কম থাকে। আদর্শ বীজতলায় দ্রুত সেচের পানি নিষ্কাশন করা যায়। সহজে আলো-বাতাস চলাচল করে। চারার শিকর সহজে মাটিতে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করে। পরিচর্যা করাও সহজ হয়। চারা সতেজ ও পুষ্ট হয় এবং ফলনও ভাল হয়। 

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো.রফিকুজ্জামান জানান, উপজেলার ৯ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিমাণ জমির জন্য ৬শ হেক্টর বীজতলার প্রয়োজন। এর মধ্যে আদর্শ বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫শ হেক্টর। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদন, বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলা করতে ও কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা ও পোকার আক্রমণের ঝুঁকি কম থাকায় কৃষকরা আদর্শ বীজতলা তৈরী করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here