কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী চাকরি কমিয়ে দিচ্ছে?

0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী চাকরি কমিয়ে দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রে হঠাৎ করে অনেক চাকরি কমে যাচ্ছে—এমন দাবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি ভাইরাল পোস্ট বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত মানুষের কাজ দখল করছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বিতর্কের শুরু হয় ‘মিল্ক রোড’ নামের একটি সামাজিক মাধ্যম পেজের পোস্ট থেকে। তারা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে চাকরি কমছে। এর সূত্র ছিল জ্যাক ডরসি’র মন্তব্য। তিনি ‘ব্লক ইনক.’ নামের একটি পেমেন্ট কোম্পানির প্রধান। খবর আসে, ব্লক ইনক. প্রায় ৪ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করবে, যা তাদের মোট কর্মীর প্রায় অর্ধেক। কোম্পানিটি দ্রুত এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের কাঠামো বদলাচ্ছে।

পরে মিল্ক রোড আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের ছাঁটাইয়ের তালিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে ছিল অ্যামাজন, ইন্টেল, মাইক্রোসফট, সিটিগ্রুপ, নিসান ও ইউপিএস। পোস্টে বলা হয়, এআই বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ চাকরি হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে কোম্পানিগুলোর বিবৃতিতে দেখা যায়, ছাঁটাইয়ের কারণ শুধু এআই নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানো, চাহিদা কমে যাওয়া, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত নিয়োগের কারণে এখন কর্মী কমাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে দ্রুত নিয়োগ হয়েছিল। এখন তারা দক্ষতা বাড়াতে কর্মী সংখ্যা সমন্বয় করছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘ডোজ’ নামে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি কর্মসূচি ৩ লাখের বেশি সরকারি চাকরি কেটেছে। তবে এমন কোনো সরকারি কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত হয়নি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এআই এখন কোডিং, কাস্টমার সাপোর্ট ও ডেটা বিশ্লেষণের মতো কাজে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু সব বড় ছাঁটাইয়ের জন্য একমাত্র এআই দায়ী—এ কথা এখনই বলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অবকাঠামো ও উন্নত উৎপাদন খাতে এখনো নতুন নিয়োগ হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এআই মানুষের সহায়ক হওয়া উচিত, বিকল্প নয়। আবার কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন অ্যাপ থাকা দরকার, যা দেখাবে কোন কোম্পানি কতজন মানুষ রেখে কাজ করছে।

 প্রযুক্তির পরিবর্তন কর্মক্ষেত্রে বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এটি কতটা সুযোগ আর কতটা সংকট তৈরি করবে, তা সময়ই বলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here