কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায় বদলাচ্ছে আমিরাতের চাকরির বাজার

0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতায় বদলাচ্ছে আমিরাতের চাকরির বাজার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে। সেই বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত দক্ষতা এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা নয় বরং চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই দক্ষতার অভাব থাকলে প্রার্থী শুরুতেই বাদ পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমিরাতের চাকরির বিজ্ঞাপন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর কাজের উল্লেখ দ্রুত বেড়েছে। এমনকি যেসব পদ ঐতিহ্যগতভাবে প্রযুক্তিভিত্তিক নয়, সেখানেও এখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়া উন্নয়ন সংক্রান্ত সক্ষমতা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় প্রতি দশটি চাকরির বিজ্ঞাপনের একটিতে স্বয়ংক্রিয় বা প্রযুক্তিনির্ভর কাজের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে নিয়োগদাতাদের ভাষা ও চাহিদায় স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু অভিজ্ঞতা বা পদবির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না বরং প্রার্থী কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাজের গতি, মান ও দক্ষতা বাড়াতে পারে, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল বিবেচ্য বিষয়। এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি নিয়োগদাতা জানিয়েছেন- প্রাথমিক বাছাইয়ের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও জানা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রার্থী খোঁজা থেকে শুরু করে জীবনবৃত্তান্ত যাচাই পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে যেসব প্রার্থীর এই বিষয়ে ধারণা ও অভিজ্ঞতা আছে তারা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকছেন।

অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঞ্চলের অধিকাংশ পেশাজীবী এখন নিয়মিতভাবে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন এবং এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কাজের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে নিয়োগদাতাদের কাছে এই দক্ষতা এখন আর বাড়তি কিছু নয় বরং একটি মৌলিক প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রার্থীদের কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারলেই বাছাই তালিকায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

তথ্য সূত্র : খালিজ টাইমস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here