কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে কুমারখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্রিকেট একাদশকে আট উইকেটে হারিয়েছে তারা।
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত খেলা উপভোগ করেন দর্শকরা। এসময় তারা করতালি দিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।
খেলা শেষে সন্ধায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহেনা পারভীন। এসময় তিনি বলেন, দেশের এমন একটি সময়ে নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন সবাইকে শক্তি ও সাহস যোগায়। শীতের পড়ন্ত বিকেলে নারীদের খেলায় আমি মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত। ছেলেদের আগে এদেশের নারীরাও বিশ্বকাপ ছিনিয়ে আনবে।
তিনি আরও বলেন, পুরুষের পাশাপশি এ অঞ্চলে নারীরাও শিক্ষায়,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ায় অনেক ভালো করবে। তারা মননশীলতা,সংবেদনশীলতা সৃষ্টিশীলতা, মানবিকতারর মধ্যে দিয়ে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে।
এদিকে টুর্নামেন্টের অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রাসহ সংশ্লিষ্টরা। মাঠে উপস্থিত বিকেএমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আরিফা খাতুন জানান, টুর্নামেন্টে তার দল পরাজিত হলেও, খেলা শেখার জন্য ফাইনাল দেখতে এসেছেন তিনি। কুমারখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের খেলোয়ার মায়া খাতুন জানান, তাদের এলাকায় আধুনিক মানের কোনো খেলার মাঠ নেই। সরঞ্জাম, প্রশিক্ষক বা তেমন কোনো আয়োজন নেই। এ সব থাকলে কুমারখালীর মেয়েরাও একদিন জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতো।
কবি ও নাট্যকর লিটন আব্বাস জানান, শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও খেলাধুলায় কুমারখালীর মাটি উর্বর। তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। প্রথমবার এমন আয়োজন দেখে তিনি খুশি।
নারীদের খেলাধুলার প্রসার, উন্নয়ন ও জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তুলে আনার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন ড. নাসের ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বেকার্সফিল্ড ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপারসন ড. মো. আবু নাসের। তিনি জানান, টুর্নামেন্টে ৮টি অংশ নিয়েছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের ব্যাপক সারা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম, কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু’র ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার ড. এ কে এম গোলাম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক প্রমুখ।

