কুমিল্লা নগরীর শতাধিক পুকুর-দিঘি বাঁচানোর দাবি

0
কুমিল্লা নগরীর শতাধিক পুকুর-দিঘি বাঁচানোর দাবি

একসময় ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা এখন হারাতে বসেছে তার পুকুর দিঘির ঐতিহ্য। নগরীর শতাধিক পুকুর দিঘি রক্ষায় জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নগরবাসীর মতে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা পুকুরগুলো সংস্কার করা গেলে কুমিল্লার হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। একই সঙ্গে নগরীর সৌন্দর্য বাড়বে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রব কমবে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি নগরীতে মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় সিটি প্রশাসন কয়েকটি পুকুর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিসি পুকুর, ফয়জুন্নেছা স্কুলের পাশের পুকুর, লাউ দিঘি, আদালত পুকুর ও তাল পুকুর।

প্রবীণদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর আগে কুমিল্লা শহরে ৮০০টিরও বেশি পুকুর ছিল। বর্তমানে তা কমে একশটির কাছাকাছি নেমে এসেছে। গত দুই দশকে ভরাট করা হয়েছে দুই শতাধিক পুকুর।

সম্প্রতি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে শত বছরের দুটি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। এছাড়া চিড়িয়াখানার সামনের বিল, হাতিপুকুরের একাংশ, নারায়ণ পুকুরের উত্তর পাশ, বড়বাড়ির পুকুর, কাজীপুকুরসহ আরও অনেক পুরোনো জলাধার ভরাট বা আংশিক ভরাট হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কুমিল্লা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জামিল আহমেদ খন্দাকার, প্রত্যয় উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা আক্তার, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, পুকুর দিঘি ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে শহরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগুন লাগলে পানি সংকট দেখা দেবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর টিএন্ডটি অফিসের পাশের পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কচুরিপানা, কচুগাছ ও কলাগাছ জন্মেছে, যা মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে ডিসি পুকুর ও লাউ দিঘিতেও।

তবে এখনও ধর্মসাগর ও নানুয়ার দিঘি পরিচ্ছন্ন পানির জন্য পরিচিত রয়েছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, পুকুর দিঘির ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি পুকুর নিয়ে কাজ চলছে, পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোও সংস্কার করা হবে। পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত নগরী গড়তে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here