পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক হোয়াইট-বল প্রধান কোচ গ্যারি কার্স্টেন দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’কে দায়ী করার পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তবে কার্স্টেনের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ খুব বেশি ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই কোচ দাবি করেন, কোচিং দায়িত্ব পালনের সময় বাইরে থেকে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ও চাপের কারণে কাজ চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, কোচ হিসেবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে বারবার বাইরের প্রভাব বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
কার্স্টেন বলেন, “আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে হস্তক্ষেপের মাত্রা। এত বেশি হস্তক্ষেপ আমি আগে কখনো দেখিনি। বাইরে থেকে ক্রমাগত চাপ থাকলে কোচের পক্ষে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজের পরিকল্পনা করা খুব কঠিন হয়ে যায়।”
পাকিস্তান ক্রিকেটের সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দল খারাপ করলে সবার আগে কোচদেরই দায়ী করা হয় বলে মন্তব্য করেন কার্স্টেন। তার মতে, অনেক সময় মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত না করে তড়িঘড়ি করে কোচিং স্টাফদের ওপরই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল বলেও জানান তিনি। কার্স্টেন বলেন, “আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে সত্যিই উপভোগ করেছি। যেকোনো সংস্কৃতির পেশাদার ক্রিকেটাররা দারুণ মানুষ। ভাষার কিছু বাধা থাকলেও ক্রিকেট নিয়ে কথা বললে আমরা একে অপরকে বুঝতে পারতাম।”
রবিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কার্স্টেনের মন্তব্য নিয়ে কথা বলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি।
এ সময় তিনি বলেন, “গ্যারি কার্স্টেনের সঙ্গে আমার খুব বেশি যোগাযোগ হয়নি। তাই যারা তার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করতেন এবং কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তারাই তার অভিযোগের বিস্তারিত জবাব দিতে পারবেন।”
২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের হোয়াইট-বল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন কার্স্টেন। তবে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করেন।
অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণার সময় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাকে সম্পৃক্ত না করায় অসন্তোষ তৈরি হয়। এরপরই হঠাৎ করে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

