রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ প্রাঙ্গণে রোপিত বিরল প্রজাতির কাইজেলিয়া গাছের নতুন বংশে ফুটেছে আকর্ষণীয় ফুল। দীর্ঘদিন পর গাছে ফুল ফোটায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিনই অনেকে ছুটে আসছেন এই বিরল ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
জানা যায়, ২০০২ সালের দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রথম কারমাইকেল কলেজের কাইজেলিয়া গাছ সম্পর্কে তথ্য দেন তখনকার শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে বাংলা একাডেমির সহপরিচালক কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রথমবারের মতো কাইজেলিয়ার বীজ থেকে চারা উৎপাদনে সফল হন।
একই বছরের ১১ ডিসেম্বর রংপুরের ছান্দনিক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে কারমাইকেল কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সামনে দুটি এবং রংপুর সরকারি কলেজে আরও দুটি চারা রোপণ করা হয়। তবে রংপুর সরকারি কলেজে রোপিত গাছে এখনো ফুল বা ফল দেখা না গেলেও কারমাইকেল কলেজের একটি গাছে কয়েক বছর বিরতির পর আবার ফুল ফুটেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তরুণ গাছটি ফুলের কলিতে ভরে গেছে এবং ফুটন্ত ফুল ঝরে পড়ে সবুজ ঘাস ঢেকে দিচ্ছে।
কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শতবর্ষী কাইজেলিয়ার আরও দুটি প্রাচীন গাছ রয়েছে, যেগুলোর অবস্থা বর্তমানে বেশ নাজুক। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পশ্চিম পাশে এবং অন্যটি কলেজ মসজিদের পাশে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদূর আফ্রিকা থেকে আগত এই বিরল গাছের এমন প্রাচীন নমুনা দেশের অন্য কোথাও খুব একটা দেখা যায় না।
কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, কাইজেলিয়া গাছ সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। এর ফুল খয়েরি রঙের এবং ফল লম্বাটে ও গোলাকার, যার ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ফল কাঁচা বা পাকা—কোনো অবস্থাতেই খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে শোনা যায়, মানুষের বাহুর মতো দেখতে এই ফল একসময় হাতির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
তিনি আরও বলেন, কাইজেলিয়ার সব গাছে ফুল বা ফল আসে না—এমন ধারণা থাকলেও কারমাইকেল কলেজের একটি গাছে ফুল ফোটা নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন সব গাছে ফুল ও ফল আসে না, তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এই গাছের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি।

