কানের লালগালিচায় আরাধ্যার অভিষেক, মা-মেয়েতে মুগ্ধ নেটপাড়া

0
কানের লালগালিচায় আরাধ্যার অভিষেক, মা-মেয়েতে মুগ্ধ নেটপাড়া

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসবে বরাবরের মতোই আলো ছড়িয়েছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে এবারের আসরে উৎসবের শেষ লগ্নে হাজির হয়ে ভক্তদের দ্বিগুণ চমক দিয়েছেন এই বলিউড কুইন। এবার আর একা নন, কানের লালগালিচায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটল তার কিশোরী কন্যা আরাধ্যা বচ্চনের। 

লরিয়াল প্যারিসের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মায়ের পাশে এসে যখন আরাধ্যা দাঁড়াল, তখন উপস্থিত আলোকচিত্রীদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন থমকে গিয়েছিল। লালগালিচায় মা ও মেয়ের এমন রাজকীয় উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

কান ২০২৬ উৎসবে নিজের প্রথম দিনের উপস্থিতিতে দুটি ভিন্ন ও চোখধাঁধানো লুকে ধরা দেন ঐশ্বরিয়া রাই। এর মধ্যে লরিয়াল প্যারিসের অনুষ্ঠানে তিনি সেজেছিলেন হালকা গোলাপি বা বেবি পিঙ্ক রঙের চমৎকার একটি পোশাকে। মায়ের ঠিক পাশেই গাঢ় লাল বা রুবি-রেড রঙের সাটিন গাউন পরে দাঁড়িয়েছিল আরাধ্যা বচ্চন। আরাধ্যার গাউনের সঙ্গে ম্যাচিং করা ঝিলমিলে কেপ ফ্যাশনে যুক্ত করেছিল এক অনন্য মাত্রা। ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মনোরম নীল জলরাশিকে ব্যাকড্রপ বা পটভূমি বানিয়ে মা-মেয়ের এই চমৎকার পোজের একাধিক ছবি ও ভিডিও এখন অন্তর্জালে প্রশংসায় ভাসছে। চুলে হালকা কার্ল আর গ্লসি মেকআপের চিরাচরিত স্টাইলে ঐশ্বরিয়াকে যেমন মোহময়ী লাগছিল, তেমনই মায়ের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আরাধ্যাও তার নিজস্ব আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলেছে।

উৎসবে নিজের প্রথম লুকটির জন্য ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অমিত আগারওয়ালের ডিজাইন করা একটি ড্রামাটিক রয়্যাল ব্লু বডি কন গাউন। ‘লুমিনারা’ নামের এই বিশেষ গাউনটি মূলত গতিশীল আলোর থিম বা ‘লাইট ইন মোশন’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ডিজাইনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পোশাকটিতে আলোকে কেবল দীপ্তি হিসেবে নয়, বরং শক্তি ও রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। গাউনটির মূল আকর্ষণ ছিল অমিত আগারওয়ালের সিগনেচার ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারি টেকনিক, যা তৈরিতে কারিগরদের প্রায় ১৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখুঁত হাতের কাজ করতে হয়েছে।

হাজার হাজার ক্রিস্টালের রৈখিক অলংকরণ দিয়ে তৈরি এই গাউনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা আলোর প্রতিফলনে বারবার নিজের রূপ পরিবর্তন করে। ফলে পরিধানকারী যখনই হাঁটেন বা নড়াচড়া করেন, পোশাকটির মধ্যে একধরনের গতিশীলতা বা কাইনেটিক আবহ তৈরি হয়। এর কাঁধের অংশ থেকে বের হওয়া ডানার মতো নিখুঁত স্ট্রাকচার পুরো পোশাকে একটি আধুনিক ও আর্কিটেকচারাল ধারালো ভাব এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, এর গভীর নীল বা অ্যাবিস ব্লু রংটি মহাজাগতিক গভীরতা ও মহাশূন্যে আলোর অন্তহীন যাত্রাকে নির্দেশ করে। 

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কানের লালগালিচায় রাজত্ব করা ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে এই পোশাকটি তার ফ্যাশন বিবর্তনের এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন ফ্যাশনবোদ্ধারা।

সূত্র: মিড-ডে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here