বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক এবার নতুন ভূমিকায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অধীনে বিশেষায়িত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে চান, স্থানীয় কোচরাও জাতীয় দলের জন্য সমানভাবে যোগ্য।
দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে রফিক গণমাধ্যমকে বলেন, জীবনে অনেক স্বপ্ন থাকে, কিন্তু সব স্বপ্ন পূরণ হয় না। তবে দীর্ঘদিন ধরে যে কাজটি করতে চেয়েছেন, সেই সুযোগ পাওয়ায় তিনি দারুণ আনন্দিত। এখন তার মূল লক্ষ্য দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করা।
তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত স্বপ্নের চেয়ে দেশের স্বপ্ন পূরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোচ হিসেবে যদি তিনি কিছু মানসম্মত ক্রিকেটার তৈরি করতে পারেন এবং তারা যদি দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে পারে, সেটিকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখবেন তিনি।
কোচিং দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রফিক বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। একজন কোচ যেমন খেলোয়াড়দের শেখান, তেমনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও শেখার সুযোগ থাকে। এই পারস্পরিক শেখার সমন্বয়েই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
নিজের কাজের ধরন নিয়ে তিনি জানান, এখনো নির্দিষ্টভাবে কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন তা জানা না থাকলেও, যেখানেই কাজ করবেন সেখানেই মানসম্মত অবদান রাখতে চান। বিশেষ করে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে কৌশল নির্ধারণ, ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং সেই অনুযায়ী বোলিং পরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
রফিক আরও বলেন, জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেট আলাদা প্ল্যাটফর্ম। ঘরোয়া পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ বেশি থাকলেও জাতীয় দলে কাজ করতে হলে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পেতে হয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার সুযোগকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এক বছরের চুক্তিতে কাজ শুরু করতে যাওয়া এই কোচ জানান, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নির্ধারণের আগে তিনি কাজ শুরু করতে চান। এরপর তার কাজই মূল্যায়ন করবে গণমাধ্যম ও বোর্ড। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্থানীয় কোচদের প্রতি আস্থা বাড়াতে চান তিনি।
স্থানীয় ও বিদেশি কোচদের প্রসঙ্গে রফিক বলেন, বিশ্বের অনেক বড় দল এখন স্থানীয় কোচদের ওপর নির্ভর করছে এবং সফলতাও পাচ্ছে। তার মতে, স্থানীয় কোচরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেশি সময় নিয়ে কাজ করতে পারেন, যা উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে।

