কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কলকাতার পশুহাটগুলোতে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গরু ও মহিষ জবাইয়ে কঠোর আইন কার্যকরের নির্দেশ দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পশু হাটে বড় পশুর উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। ফলে কোরবানির বাজারে এখন ভরসা হয়ে উঠেছে খাসি ও দুম্বা। তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশছোঁয়া হয়েছে এসব পশুর দামও।
গত বছর কলকাতার পার্ক সার্কাসের এক নম্বর রাইফেল রেঞ্জ রোডের ‘আল্লাহ ভরসা’ পশুহাটে গরুর ব্যাপক বেচাকেনা হয়েছিল। কিন্তু এবার সেখানে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। শনিবার দুপুরে ওই স্থানে বিক্রি হচ্ছিল নারী ও পুরুষের পোশাক। কোরবানির মাংস কাটার সরঞ্জামের দোকানগুলোতেও ছিল ক্রেতাশূন্য পরিবেশ।
গরু ও মহিষের সংকটে কোরবানির পশুর হাট গুলোতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে খাসি ও দুম্বা। চাহিদা বাড়ার সুযোগে এসব পশুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদের পাশের পশু হাটে দেখা গেছে, কলকাতার আশপাশের জেলা ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা খাসি ও দুম্বা নিয়ে এসেছেন।
স্থানীয় খামারি আসলাম দুটি উন্নত জাতের খাসি নিয়ে এসেছেন বাজারে। তিনি এক জোড়ার দাম হাঁকিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। অর্থাৎ প্রতিটি খাসির দাম ৬০ হাজার রুপি।
আসলাম বলেন, ‘গরু না থাকায় সব চাপ এখন খাসির ওপর। তাই দামও বেড়েছে।’
পশু হাটে আসা হাদি নামের এক ক্রেতা জানান, একটা খাসির দাম ৫০ হাজার রুপি চাচ্ছে। গত বছর যে বাচ্চা খাসি ২৫ হাজার রুপিতে পাওয়া গেছে, এবার সেটার দাম ৩৫ হাজার রুপি।
তিনি বলেন, গরুর সংকটের কারণেই খাসির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। ক্রেতারা দরদাম করলেও বিক্রেতারা দাম কমাতে রাজি হচ্ছেন না।
বছরের পর বছর গরু কোরবানি দিলেও এবার বাধ্য হয়ে খাসি কিনেছেন এক ক্রেতা। তিনি বলেন, গরু পাওয়া যাচ্ছে না, তাই পাঁচটি খাসি কিনেছি ১ লাখ ১০ হাজার রুপিতে।
আরেক ক্রেতা মেহতাব ৮০ হাজার রুপিতে দুটি খাসি কিনেছেন। তবে তার মতে, চাহিদার তুলনায় দাম খুব বেশি নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, যে খাসির দাম আগে ২০ হাজার রুপি ছিল, এখন সেটার জন্য ৪০ হাজার রুপি চাওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে মধ্যবিত্ত মানুষ।
তিনি আরও বলেন, সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কোরবানির পশু কেনার। আল্লাহ চাইলে ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

