ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে কৃষিতে সফলতা পেয়েছেন সাজিদ নামের এক যুবক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।
নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের বাসিন্দা সাজিদ কয়েক বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটান। ছয় মাস আগে দেশে ফিরে হতাশা ঝেড়ে ফেলে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন এলাকার অনাবাদি পতিত জমি পরিষ্কার করে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে করলা চাষ শুরু করেন।
৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী’ হাইব্রিড জাতের করলা আবাদ করেন সাজিদ। কৃষি বিভাগের ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপকরণ সহায়তা নেন। পাশাপাশি মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন ও সুষম সার ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং ফলন বেড়েছে। এখন পর্যন্ত তার জমি থেকে প্রায় ৭০০ কেজি করলা উত্তোলন করা হয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি করলা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৪৫ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানান সাজিদ, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
সাজিদ বলেন, প্রবাসে কষ্ট করে যে টাকা আয় করেছি, তা দিয়ে দেশে স্থায়ীভাবে কিছু করতে চেয়েছি। কৃষিকেই আমার কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা মনে হয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে আরও তিন বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, সাজিদের খামার থেকে নিয়মিত স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে তার আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, সাজিদের মতো প্রবাস ফেরত যুবকরা যদি পরিকল্পিতভাবে কৃষিতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কৃষি যে লাভজনক ও টেকসই পেশা হতে পারে, সাজিদের সাফল্য তার প্রমাণ।

