কনকনে শীতের থাবা, ঘরে–বাইরে উষ্ণ ও নিরাপদ থাকতে যা জানা জরুরি

0
কনকনে শীতের থাবা, ঘরে–বাইরে উষ্ণ ও নিরাপদ থাকতে যা জানা জরুরি

ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর সূর্যের দেখা মিলতে দেরি—দেশজুড়ে শীত এখন তার চরম রূপ দেখাচ্ছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। ঠান্ডা বাতাসের কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। এই আবহাওয়া শুধু কষ্টকরই নয়, অবহেলা করলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শীতের সময় ঘরের ভেতরে ও বাইরে—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

ঘরের ভেতরেও শীতের ঝুঁকি

অনেকের ধারণা, ঘরে থাকলে শীতের ক্ষতি হয় না। বাস্তবে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা ঘরে অবস্থান করলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এতে হাইপোথার্মিয়া বা ত্বক জমে যাওয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

ঘরে উষ্ণ থাকতে করণীয়—

  • ঘরের তাপমাত্রা অন্তত ৬৮–৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখার চেষ্টা করুন।
  • ব্যবহার না করা ঘরের দরজা–জানালা বন্ধ রাখুন, যাতে ঠান্ডা বাতাস কম ঢোকে।
  • জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে কি না খেয়াল রাখুন। সন্ধ্যার পর পর্দা বা ব্লাইন্ড টেনে দিন।
  • ঘরে থাকলেও গরম কাপড় পরুন। পায়ে মোটা মোজা, গায়ে সোয়েটার বা শাল ব্যবহার করুন। মাথায় উলের টুপি শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • রাতে ঘুমানোর সময় পাতলা পোশাকের বদলে উষ্ণ পোশাক পরুন, প্রয়োজনে বাড়তি কম্বল নিন।
  • শীত নিবারণের অজুহাতে অ্যালকোহল পান এড়িয়ে চলুন। এতে শরীরের তাপ আরও দ্রুত কমে যেতে পারে।

স্পেস হিটার ব্যবহারে সতর্কতা

শীতের সময় অনেকে স্পেস হিটার ব্যবহার করেন। তবে ভুল ব্যবহারে আগুন লাগা বা বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি থাকে।

হিটার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখুন—

  • হিটার শক্ত ও সমতল জায়গায় রাখুন।
  • পর্দা, কাপড় বা কাগজের মতো দাহ্য বস্তু থেকে দূরে রাখুন।
  • তার বা প্লাগে ক্ষতি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
  • এক্সটেনশন কর্ড নয়, সরাসরি দেয়ালের সকেটে সংযোগ দিন।
  • ঘুমানোর আগে বা ঘর ছাড়ার সময় অবশ্যই হিটার বন্ধ করে দিন।

বাইরে গেলে বাড়তি সতর্কতা

শীতের দিনে বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা জরুরি। বাতাস ও তাপমাত্রা মিলিয়ে যে অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভূত হয়, সেটিই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এতে ফ্রস্টবাইট বা শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাইরে গেলে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন—

  • খুব ঠান্ডার দিনে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • বাইরে কাজ করতে হলে মাঝেমধ্যে উষ্ণ জায়গায় গিয়ে শরীর গরম করুন।
  • শরীর ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরুন। ভেজা কাপড়ে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়।
  • ঠান্ডা পানিতে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে -চলুন।
  • মাফলার ও টুপি ব্যবহার করুন। মাথা ঢেকে না রাখলে শরীরের অনেকটা তাপ বেরিয়ে যায়।

দেশজুড়ে চলমান এই তীব্র শীতে একটু সচেতনতা আর সঠিক প্রস্তুতিই বড় বিপদ এড়াতে পারে। ঘরে হোক বা বাইরে—নিজের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের দিকে বিশেষ নজর রাখুন। শীত উপভোগ করুন, তবে নিরাপদ থেকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here