কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি দুই বছর অন্তর একবার মহড়া অনুষ্ঠানে একটি হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
মহড়া অনুষ্ঠান শেষে বেচিক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন- ‘এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আমাদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের অডিটে ইতিবাচক ফলাফল আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
মহড়ায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান ও বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। মহড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা অংশ গ্রহন করেন।
এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল আমাদের প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা যাচাই করা এবং কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা। এই ঘাটতিগুলো নিয়ে একটি ইভালুয়েশন টিম গঠন করা হয়েছে যারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এছাড়া এপিবিএন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।’
তিনি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ এবং অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব কাজ শেষ হলে পর্যটন নগরীর ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

