কক্সবাজারে ১০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

0
কক্সবাজারে ১০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ১০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ৬৪ বিজিবি ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। 

৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লে কর্ণেল মো জহিরুল ইসলাম শনিবার বিকালে এক ব্রিফিং জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ পূর্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে হ্নীলা এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টা করছে। তথ্যের ভিত্তিতে ৬৪ বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারী, প্রযুক্তি নির্ভর পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রম জোরদার করে। 

আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর সীমান্ত পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে সীমান্তে রাডার, আধুনিক ড্রোন ও থার্মাল ইমেজার ইত্যাদি ব্যবহার করে। যার ফলশ্রুতিতে চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে চালানটি দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলেও, বিজিবির সার্বক্ষণিক সতর্কতা, নিরবচ্ছিন্ন টহল এবং প্রযুক্তিগত আভিযানিক প্রস্তুতির কারণে তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শনিবার ভোরে রাডারের মাধ্যমে নাফ নদী সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার আওতাধীন হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ওব্রাং পোস্ট এলাকায় নাফ নদীর মিয়ারমার হতে বাংলাদেশের দিকে আসার সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন চোরাকারবারীরা নাফ নদীর বাংলাদেশের অংশে আসলে থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, চোরাকারবারির দল নাফ নদী সাঁতরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেড়িবাঁধের উপর কৌশলগতভাবে দ্রুত অ্যাম্বুশ স্থাপন করে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারির দল বিজিবি’র ওব্রাং পোস্ট সংলগ্ন নাফ নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। 

বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্য ফেলে দিয়ে নাফ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৩টি বড় পোটলা ইয়াবা উদ্ধার করেন। পোটলাগুলো খুলে মোট ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। 

উদ্ধারকৃত মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইসঙ্গে, এই চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়সহ বিজিবি’র নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও দুপুরে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকা হতে আরোও দুই লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here