এসএমই খাতে ১৪ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব: চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ

0
এসএমই খাতে ১৪ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব: চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ

পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে বছরে ১৪ দশমিক ০৯ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সাম্প্রতিক এক গবেষণা। 

একই সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট সুবিধা কাজে লাগিয়ে বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় অর্জন ও শিল্প পরিচালন ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ শনিবার ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহ-গবেষক সাবরিন সুলতানা ও নাজিফা আলম তোরসা।

গবেষণায় বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে বিকেন্দ্রীভূত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো গেলে শিল্প পরিচালন ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এতে একদিকে পরিবেশগত মান বজায় থাকবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়বে। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এসএমই ক্লাস্টারগুলোর জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে মোট শিল্প ইউনিটের ৯০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত, যা শিল্প খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তিকে কর্মসংস্থান দেয় এবং জাতীয় জিডিপিতে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অবদান রাখে। তবে এ খাতের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি খাত থেকে ৬৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিল্প খাতে জ্বালানি রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় বিসিক শিল্পনগরীর চামড়া, প্লাস্টিক উৎপাদন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ চারটি খাত মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪৬ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়। এর মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে ১৪ দশমিক ০৯ মিলিয়ন টন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। খাতভিত্তিক হিসাবে চামড়া শিল্পে ১৯-৩৩ শতাংশ, হালকা প্রকৌশলে ১৯-৩১ শতাংশ, প্লাস্টিক উৎপাদনে ৩৩-৪৯ শতাংশ এবং প্যাকেজিং খাতে ১৫-২৮ শতাংশ নিঃসরণ হ্রাসের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিসিক শিল্পনগরীর মাত্র ১০ শতাংশ খালি জায়গা ব্যবহার করে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা বছরে ৮২ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে এবং ৫১ হাজার ৪৪১ টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে। রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ সাধারণত ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে উঠে আসে। এছাড়া ওপেক্স মডেলের আওতায় কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে পারে।

এম জাকির হোসেন খান বলেন, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এসএমই খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে তাদের ক্ষুদ্র শিল্পকে গ্রিডের অস্থিরতা ও আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here