জেফরি এপস্টেইন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে তিনি স্পাই হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে এফবিআইর একটি নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
২০২০ সালের একটি গোপন নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে, এপস্টেইন কেবল একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীই ছিলেন না বরং তিনি মার্কিন নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব খাটানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। একজন গোপন তথ্যদাতার বরাতে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টেইন এবং প্রখ্যাত মার্কিন আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিৎজের মধ্যকার টেলিফোন আলাপচারিতার তথ্য সরাসরি মোসাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ডারশোভিৎজ নিজেও মোসাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তিনি অন্য এক আইনজীবীর কাছে স্বীকার করেছিলেন, এপস্টেইন মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার অংশ ছিলেন। এই নথিতে শুধু গোয়েন্দা তৎপরতাই নয় বরং সিলিকন ভ্যালি থেকে প্রযুক্তি চুরির পরিকল্পনার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে।
রাশিয়ার পুতিন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এপস্টেইন এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও এই নথিতে উঠে এসেছে।
এদিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মোটেও এটি প্রমাণ করে না যে তিনি ইসরায়েলের জন্য কাজ করতেন। বরং তিনি অভিযোগ করেন, বারাক দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলি গণতন্ত্রকে নড়বড়ে করার চেষ্টা করছেন এবং বামপন্থীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই

