যৌন অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত প্রয়াত জেফরি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে এবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজিরা দিচ্ছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং আইনি লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার এই শুনানিতে অংশ নিতে রাজি হয়েছেন তিনি।
এর আগে হিলারি এবং তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন দুজনেই এই প্যানেলের সামনে হাজির হওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে আসছিলেন। তবে কংগ্রেসের অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।
হিলারি ক্লিনটন অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সাক্ষাতের কথা তার স্মরণে নেই। অন্যদিকে বিল ক্লিনটন এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও কোনো ধরনের অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বিষয়টিকে জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রায় দুই দশক আগেই তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং এই কুখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। বিল ক্লিনটনকেও আগামী শুক্রবার এই তদন্ত কমিটির সামনে পৃথকভাবে সাক্ষ্য দিতে দেখা যাবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লিনটন দম্পতি এই শুনানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি অংশ তাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার প্রস্তাব আনার পক্ষে মত দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্লিনটনদের পক্ষ থেকে এই পুরো প্রক্রিয়াকে রিপাবলিকান নেতা জেমস কোমারের সাজানো একটি রাজনৈতিক চাল এবং প্রতিপক্ষকে হেয় করার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এপস্টাইন সম্পর্কে তাদের কাছে থাকা সামান্য তথ্য ইতোমধ্যে হলফনামার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তবু আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এই নজির স্থাপন করতেই তারা শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাদের মুখপাত্র।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও ছবিতে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সংযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধী হওয়া নয়, তবু তদন্তের স্বার্থে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্কের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়াতে তাদের নিজ বাসভবনের কাছেই এই রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ক্লিনটন দম্পতি চেয়েছিলেন এই শুনানি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে, যাতে সাক্ষ্যের কোনো অংশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস না করা হয়।
হিলারি ক্লিনটনের এই শুনানির পর দুই দলের নেতারাই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

