এক পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমেরিকার অর্ধ বিলিয়ন হাওয়া

0
এক পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমেরিকার অর্ধ বিলিয়ন হাওয়া

ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের নিখোঁজ দুই পাইলটকে উদ্ধারে পরিচালিত এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সফল হওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চরম প্রতিকূল পরিবেশে চালানো এই উদ্ধার অভিযানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় মার্কিন কোষাগারের প্রায় ৫০ কোটি বা অর্ধ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল এই অভিযানে মার্কিন বাহিনী তাদের বেশ কিছু আধুনিক আকাশযান হারিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইরান দাবি করে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত করেছে। প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের এই অত্যাধুনিক বিমানে একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ছিলেন। ভূপাতিত হওয়ার পরপরই এক কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন ইসফাহান প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হন। ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধারে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ-১০ থান্ডারবোল্ট, এমসি-১৩০জে কমান্ডো, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সমন্বয়ে একটি বিশাল বহর পাঠায়।

উদ্ধার অভিযান সফল হলেও ফেরার পথে ঘটে বিপত্তি। কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি এমসি-১৩০জে কার্গো বিমান অকেজো হয়ে পড়ে। স্পর্শকাতর প্রযুক্তি যেন শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে, সেজন্য মার্কিন বাহিনী নিজেদের বিমান দুটি নিজেরাই ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করে। তবে ইরান বলছে, তারাই এই মার্কিন দান ভূপাতিত করেছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি বিমানের দাম প্রায় ১০ কোটি ডলারেরও বেশি। এছাড়া ইরানের দাবি অনুযায়ী বেশ কয়েকটি রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে এবং কুয়েতি আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানও এই অভিযানের অংশ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে আরও দুটি লিটল বার্ড হেলিকপ্টারও ফেলে আসতে হয়েছে মার্কিন সেনাদের।

এদিকে এই যুদ্ধের উত্তাপ মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে অ্যামাজন এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্স সার্ভিস বাড়তি চার্জ আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করা হয়, তবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে একে ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

সূত্র: এনডিটিভি 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here