একীভূত পাঁচ ব্যাংক : আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও

0
একীভূত পাঁচ ব্যাংক : আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও

হেয়ার কাট পদ্ধতি বাতিল করে মুনাফাসহ আমানতের সম্পূর্ণ টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করেছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তারা।

পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের প্রধান ফটকে আটকে দেন। এর পরও আন্দোলনকারীরা প্রবেশের চেষ্টা করলে ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় আন্দোলনকারীরা হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চান এবং গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে ফিরে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে ফটকের সামনে থেকে সরে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার সেখানে অবস্থান নেন। পরে আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ফটকের সামনে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরাও তাদের সামনে অবস্থান নেন।

চলমান আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ রেজা বলেন, ‘হেয়ার কাট বাতিল করে এখন আমাদের মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। আমরা পুরো মুনাফা চাই এবং দ্রুত আমাদের সব টাকা ফেরত দিতে হবে। গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা দিতে দেওয়া হয়নি।’

আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরেক আমানতকারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আমার এক কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এখন তারা মাত্র চার লাখ টাকা মুনাফা দিতে চায়, যা আমি মেনে নিতে পারি না। অথচ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ঠিকই বেতন-ভাতা ও বোনাস নিচ্ছেন।’

বেলা ২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ ফটকের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের আমানত ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত দুই অর্থবছরের জন্য আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়, যা ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করার কথা ছিল। তবে আন্দোলনের মুখে পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমানতকারীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তবে বাস্তবতা হলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে রয়েছে। সব টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘সব আমানত ফেরত দিতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকের মূলধন রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ব্যাংকটির দায়িত্ব নিয়েছে, তাই আমানতকারীদের কাছে আমাদের অনুরোধ—সব টাকা ফেরত পেতে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here