গরুর লড়াই, ঘোড়দৌড়, কাবাডি, কুস্তিসহ নানা ধরনের খেলা গ্রামীণ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব আনন্দঘন আয়োজনকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা হলো ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। হাজার হাজার গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম খোরাক এই আয়োজন। প্রাচীনকাল থেকেই এই প্রতিযোগিতা চলে আসছে।
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা দক্ষিণ মাঠে এ আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন। দৌড়কে কেন্দ্র করে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সব বয়সী হাজারো দর্শক এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রতিটি দৌড় হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় সিলেট, হবিগঞ্জ, চুনারুঘাট, মৌলভীবাজার, ছাতক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৪০টি বিভিন্ন রঙের ঘোড়া ও দক্ষ ঘোড়সওয়ার অংশগ্রহণ করেন। দৌড় চলাকালে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতার প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৈয়দ সাজ্জাদ মোরশেদ সোহান বলেন, মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের দিকে আকৃষ্ট করে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দৌড়ে ‘বাংলার তাজ’ (সিলেট) প্রথম স্থান অর্জন করে এবং ‘লাল বাদশাহ’ (চুনারুঘাট) দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় সাবেক চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ লিটন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সৈয়দ সাজ্জাদ মোরশেদ সোহান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খরসু মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুবেল খান, ইউপি সদস্য কুদ্দুছ মিয়া, কামাল মিয়া, রহমান মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দর্শকরা জানান, একসময় ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যেত। বর্তমানে আগের মতো এই প্রতিযোগিতা খুব একটা চোখে পড়ে না। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ঘোড়ার মালিকরা জানান, ঘোড়ার প্রতি তাদের ভালোবাসা বহুদিনের। শখের ঘোড়া নিয়ে তারা বিভিন্ন দৌড়ে অংশ নেন। জয়-পরাজয় যাই হোক, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও সৌহার্দ্যই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।
পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মাইনুদ্দিন রুবেল বলেন, গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলা এখন খুব কমই দেখা যায়। আজকের আয়োজন দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই আনন্দ উপভোগ করেছি।

