কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। ব্যাটারিচালিত ভ্যান চুরি যাওয়ায় তাদের সংসারে নেমে এসেছে চরম অভাব।
ভুক্তভোগী ছকিনা খাতুন (৫৪) জানান, ঋণ করে কেনা ভ্যানটির কিস্তি এখনও অর্ধেকও শোধ হয়নি। এর মধ্যেই ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। নতুন করে ভ্যান কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। বড় ছেলে ইটভাটায় কাজ করে যা আয় করছে, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চলছে।
ছকিনা খাতুনের স্বামী মনোব্বর শেখের বয়স প্রায় ৬৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা, হৃদ্রোগ, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছেন। এই বয়সে বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও সংসারের দায়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তার ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির সন্ধান না পেয়ে তিনি কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে ৩০ হাজার টাকায় ভ্যানটি কেনা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি এনজিও থেকে ২৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ভ্যানটিতে নতুন ব্যাটারি লাগানো হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে- টিনশেডের দোচালা ঘরে স্ত্রী, দুই ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিসহ ছয়জন বসবাস করেন। ঘরের সামনে যেখানে ভ্যান রাখা থাকত, সেখানে এখন শুধু বিদ্যুতের সংযোগ পড়ে আছে। কিস্তির বই হাতে হতাশ হয়ে ঘরের দরজায় বসে আছেন বৃদ্ধ দম্পতি।
মনোব্বর শেখ বলেন, ভ্যানটি হারিয়ে তিনি এখন কর্মহীন। শরীরের অসুস্থতার কারণে অন্য কোনো কাজ করাও সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, মনোব্বর শেখ অত্যন্ত দরিদ্র ও অসুস্থ। ভ্যানটি চুরি যাওয়ায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, ভ্যান চুরির অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত আবেদন পেলে বরাদ্দ সাপেক্ষে সহায়তার চেষ্টা করা হবে। তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও এ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

