তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং দেশটির ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন উগান্ডার সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা। দাবি পূরণ না হলে ৩০ দিনের মধ্যে কাম্পালায় তুর্কি দূতাবাস বন্ধ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, মুহুজি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে তিনি এ দাবি ও হুমকি দেন। তার ভাষ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উগান্ডার দীর্ঘদিনের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি, তাই আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া তাদের অধিকার।
মুহুজির অভিযোগ, তুরস্ক সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুর বন্দর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। অথচ উগান্ডা প্রায় দুই দশক ধরে আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশনের অংশ হিসেবে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।
এই অর্থকে তিনি ‘নিরাপত্তা লভ্যাংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, তুরস্কের জন্য এটি খুবই সাধারণ একটি চুক্তি—হয় তারা আমাদের টাকা দেবে, নয়তো আমি এখানে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেব। তারা চাইলে তুরস্কে আমাদের দূতাবাসও বন্ধ করতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
শুধু অর্থের দাবি নয়, মুহুজি তুরস্কের কাছে দেশটির ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’কে তার হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলেন এবং জানান, তিনি তাকে বিয়ে করতে চান। এর আগেও ২০২২ সালের অক্টোবরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ের বিনিময়ে ১০০টি আঙ্কোল জাতের গরু উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুতর বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাটক নয়। তুরস্ক উগান্ডার সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করছে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পেছন থেকে বারবার আঘাত করে এমন বন্ধুর প্রয়োজন কী? একই সঙ্গে তিনি উগান্ডার নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তুরস্কে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেন।

