জমে উঠেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের বিশাল ব্যবধানে হারের পর পাল্টে গেছে হিসেবে নিকেশ। এমন পরিস্থিতি আজ মাঠে নামছে গ্রুপ পর্বে চমক দেখানো জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সময় সন্ধ্যা ৭টায় মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। একই গ্রুপে থাকায় ম্যাচটির দিকে কড়া নজর থাকবে ভারতেরও।
এর আগে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আত্মবিশ্বাস নিয়েই সুপার এইট শুরু করতে চায়। অধিনায়ক শাই হোপের নেতৃত্বে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ভারসাম্য দেখিয়েছে ক্যারিবীয়রা। বড় স্কোর করা এবং লক্ষ্য তাড়া—দুই ক্ষেত্রেই সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
এবারের আসরের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছে। এক ম্যাচে ১৬৯ রান রক্ষা এবং আরেক ম্যাচে ১৭৯ রান তাড়া করে জয়—দুটি ফলই প্রমাণ করে দলটি কতটা ছন্দে আছে।
ম্যাচের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামির কণ্ঠেও ছিল প্রতিপক্ষকে সম্মানের ভাষা, জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ভারতের কন্ডিশন নিয়ে প্রশ্নকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ম্যাচের আগের দিন বললেন, ‘ভারতে খেলার অভিজ্ঞতা অবশ্যই সহায়তা করে। কিন্তু কারও সেই অভিজ্ঞতা না থাকলে সেটাকে অজুহাত বানানোর কিছু নেই। একই উইকেট, একই মাটি, আবহাওয়া—সবই সবার জন্য সমান।’ তাঁর ভাষায়, ‘পরিবেশ নিয়ে না ভেবে যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে সফল হওয়ার সুযোগ থাকবে।’
টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে তিনবার জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সবশেষ দেখায়ও জয় তাদেরই।
গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে নেট রানরেটে পিছিয়ে পড়েছে ভারত। ফলে এই ম্যাচের ফল তাদের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে সুপার এইটের এই লড়াই শুধু দুই দলের জন্য নয়, পুরো গ্রুপের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিফাইনালে যেতে কী দরকার
এখন ভারতের সামনে সমীকরণ পরিষ্কার—বাকি দুই ম্যাচই জিততে হবে। সুপার এইটে তাদের পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। দুই ম্যাচ জিতলে ভারতের পয়েন্ট হবে ৪, যা সাধারণত সেমিফাইনালের জন্য যথেষ্ট।
তবে জটিলতা তৈরি হতে পারে অন্য ফলাফলে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের বাকি দুই ম্যাচের একটি হারে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ–জিম্বাবুয়ে ম্যাচের জয়ী দল দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারায়, তাহলে তিন দল ৪ পয়েন্টে সমান হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্ধারক হবে নেট রানরেট। ভারতের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিস্থিতি হবে—দক্ষিণ আফ্রিকা বাকি দুই ম্যাচই জিতলে।
এক ম্যাচ জিতলে কী হবে
ভারত যদি দুই ম্যাচের একটিতে জেতে, তাহলে সমীকরণ আরও কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সব ম্যাচ জিততে হবে এবং ভারতের একমাত্র জয় আসতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ–জিম্বাবুয়ে ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। তখন তিন দল ২ পয়েন্টে সমান হলে আবারও হিসাব হবে নেট রানরেটে।

