অফুরান প্রাণের উচ্ছ্বাস আর হাজারো প্রবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলো ঈদ ফেস্টিভ্যাল ২০২৫।
ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে বিগত ছয় বছর ধরে কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)। তবে গত ২ বছর ধরে বিসিএফ ও ফ্রান্সে বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রুপ যৌথভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে।
ঈদ উৎসব-পার্বণে একে অন্যের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের চিরকালীন ঐতিহ্য, তাই প্যারিসের পার্ক দো লা ভিলেত এর সুবিশাল সবুজ চত্বরটি অগণিত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
দুপুর ৩টা থেকে প্যারিসের বিভিন্ন অঞ্চল হতে দলে দলে প্রবাসীরা পার্কে আসতে শুরু করেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই গ্লোবসংলগ্ন পার্ক চত্বরটি একখণ্ড বাংলাদেশে পরিণত হয়। ধারণা করা হচ্ছে ঈদকে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ডের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ঈদ ফেস্টিভ্যাল।
ফ্রান্স প্রবাসীদের জন্য এ প্রাণের অনুষ্ঠান যেন সব গ্লানি, হিংসা-বিদ্বেষ, দুঃখ-কষ্টকে ঝেরে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। উৎসবকে কেন্দ্র করে বাচ্চাদের খেলনা আর ঝালমুরি, চটপটি, ফুচকা দোকানগুলো লোকারণ্য ছিল অনুষ্ঠানের শেষ অবধি।
বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)-এর সভাপতি এমডি নূর জানান, ২০১৮ সাল থেকে বিসিএফ ঈদে বিশেষ আয়োজন করে আসছে। তিনি বলেন, এক সময় ঈদকে ঘিরে প্যারিসে বড় কোনো আয়োজন হতো না। ২০১৮ সালে আমরা ঈদ ফেস্টিভ্যালের সূচনা করি, যেখানে প্রায় ৫০০০ প্রবাসী অংশ নিয়েছিলেন। এখন এটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে, প্যারিস ছাড়িয়ে মার্সেই শহরেও ঈদ ফেস্টিভ্যাল পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা, কুশল বিনিময়সহ পুরো আয়োজনের নেতৃত্ব দেন বিসিএফ সভাপতি এমডি নূর ও শ্রমিক গ্রুপ সভাপতি আবু হাসানসহ উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে উৎসবকে ঘিরে শিশুদের বিস্কিট দৌড়, পুরুষদের মোরগ লড়াই, নারীদের বালিশ খেলাসহ রকমারি আনন্দ আয়োজনসহ দিনভর বাউল গানের আয়োজন করা হয়।
উৎসবে দল-মত নির্বিশেষে প্যারিস ও ফ্রান্সের অন্যান্য শহর থেকে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সূধীজন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এটি রূপ নেয় এক নান্দনিক সর্বজনীন উৎসবে।