ইসরায়েলের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করলো হামাস

0
ইসরায়েলের আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করলো হামাস

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ৬০ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের জন্য ইসরায়েলের দেওয়া আল্টিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলি মন্ত্রীপরিষদের সচিব ইয়োসি ফুকস সোমবার জেরুজালেমে এক সম্মেলনে হুমকি দিয়েছিলেন ৬০ দিনের মধ্যে হামাস অস্ত্রত্যাগ না করলে গাজায় আবার ইসরায়েল গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফুকস দাবি করেন, “এই দুই মাস সময় দেওয়ার অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা সেটিকে সম্মান করছি।”

এরপরই হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাউই সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, “যুদ্ধ আবার শুরুর যে কোনও হুমকি এ অঞ্চলে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। ফিলিস্তিনি জনগণ কখনও আত্মসমর্পণ করবে না।”

তাছাড়া, হামাসকে নিরস্ত্র হতে বলার এ ধরনের কোনও আনুষ্ঠানিক দাবি বা সময়সীমার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলেও জানান মারদাউই।

তিনি বলেন, “ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু…এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেওয়া এসব বক্তব্য নিছক হুমকি মাত্র, চলমান আলোচনার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”

ইসরায়েলি মন্ত্রীপরিষদের সচিব ইয়োসি ফুকস ৬০ দিনের ওই আলটিমেটাম ঠিক কবে থেকে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে না জানালেও বলেন, এটি ১৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের বৈঠকের দিন থেকে শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি মূল্যায়ন করব। যদি কাজ করে, তাহলে ভাল। আর না করলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আইডিএফ’-কে অভিযান সম্পন্ন করতে হবে।”

জানুয়ারির মাঝামাঝিতে গাজা ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি সামলাবে। তবে ইসরায়েল গাজা দখল করে রাখলে হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে, বিদেশে অবস্থানরত হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালও গাজায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, দখলদার শক্তির অধীনে থাকা জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলে তারা ‘সহজ শিকার হয়ে নির্মূল হওয়ার’ ঝুঁকিতে পড়বে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গতবছর অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ৬০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ১,৫২০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদেরকে হত্যা করা ছাড়াও, গাজায় খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আশ্রয় উপকরণ প্রবেশও কঠোরভাবে সীমিত করে রেখেছে ইসরায়েল।

গাজায় প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করছে। তাদের মধ্যে ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। তারা বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here