ইরানে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। আন্দোলনের চতুর্থ দিনে একটি স্থানীয় সরকারি ভবনে প্রবেশ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে শিক্ষার্থী ও বাজার ব্যবসায়ীরা।
বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের ফাসা শহরে এ চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে। সংঘর্ষে তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
ফাসা গভর্নর জানিয়েছেন, ‘বিক্ষোভের জন্য মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিই দায়ী। প্রতিপক্ষ ও কিছু সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রভাবিত হয়ে কিছু ব্যক্তি এতে অংশ নিয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ইরান সরকার মূল্যস্ফীতি, খরা, নারী অধিকারের মতো বিষয় নিয়ে আগের বিক্ষোভগুলোতে ব্যাপক গ্রেফতার কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে এইবার সরকার পরিস্থিতি সামলাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের ‘ন্যায্য দাবি’ শোনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে মঙ্গলবার ট্রেড ইউনিয়ন ও বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। এ সময় তিনি তাদের সমস্যা সমাধান ও উদ্বেগ দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
দেশটিতে ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে। ২০২৫ সালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্যও নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকিও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি-প্রতিদিন

