ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনা পাঠানো নিয়ে যা জানা গেল

0
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সেনা পাঠানো নিয়ে যা জানা গেল

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা চললেও এখন পর্যন্ত সরাসরি স্থল অভিযান শুরু হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে—প্রয়োজনে ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের মজুত করা ইউরেনিয়াম দখলে নিতে সেখানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনায় আছে। সবকিছু।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যিনিই হোন না কেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পেতে হবে। তার ভাষায়, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর যিনি ক্ষমতায় আসবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় না করলে তিনি দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না। তিনি জানান, ইরানে এমন নেতৃত্বই তিনি দেখতে চান, যাতে ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার কথা ভাবছে। শুধু ইরানের আকাশে আধিপত্য স্থাপন করেই সন্তুষ্ট নয় ওয়াশিংটন; প্রয়োজনে স্থল অভিযানের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাদের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে এবং আগে নির্ধারিত কিছু প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে নতুন ধরনের প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রয়োজন হলে দ্রুত স্থল অভিযান শুরু করার মতো প্রস্তুতি রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থল অভিযান শুরু হলে তা দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো একটি স্থানে প্রায় পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন করে প্রচলিত সামরিক অভিযান শুরু করা। তবে এত বড় বাহিনী অল্প সময়ের মধ্যে জড়ো করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্য একটি সম্ভাবনা হলো বিশেষায়িত বাহিনী পাঠিয়ে সীমিত আকারে অভিযান চালানো। গত কয়েক দিনে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানের মাটিতে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে ইউরেনিয়ামের মজুত দখলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে বাস্তবে এই ধরনের অভিযান চালানো এখনই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে গত ৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, এই মুহূর্তে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর কথা ভাবা সময় নষ্ট। তিনি তখন পরিষ্কার করে জানান, আপাতত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা তার নেই।

তার আগে সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের কুর্দিদের ব্যবহার করার একটি পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। এতে ইরানের উত্তরাঞ্চলে কুর্দিরা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই শুরু করলে দেশটির ভেতরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালাবে কি না—সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্যই অপেক্ষা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here