ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো?

0
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো এখন রক্ষণাত্মক অবস্থান ছেড়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করছে। 

ফ্লোরিডার মিয়ামি যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্সে ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। হেগসেথ বলেন, এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে হেগসেথের এই দাবি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মহলে বিতর্ক ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। কারণ, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি।

একই সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও স্ববিরোধী মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে ইরান সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুদ্ধ সচিবের এমন মন্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের আরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। কারণ তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে এই যুদ্ধে সহায়তা করে, তবে তাদের ওপর ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানা হবে।

বাস্তব চিত্র বলছে, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো চরম অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানের হামলায় কাতার, দুবাই এবং মানামার মতো শহরগুলো ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে কুয়েত, ইরাক ও সৌদি আরবসহ অঞ্চলের দেশগুলো তাদের তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। একটি আর্থিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন তারা ইরানের আগ্রাসনের নিন্দা জানাচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের আকাশপথ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের ধীরগতি নিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here