ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ এক মাস অতিক্রম করার সাথে সাথেই পাল্টে যেতে শুরু করেছে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। শুরুর দিকে তেহরানের সামরিক শক্তিকে কয়েক দিনে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার যে দম্ভ ওয়াশিংটন করেছিল, মার্কিন বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতি সেই আত্মবিশ্বাসকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে হোয়াইট হাউস। প্রতিরক্ষা ব্যয় ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু, আবাসন ও শিক্ষা খাতের মতো অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মসূচিতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় দাবি করেছিলেন যে মাত্র দুই থেকে তিন দিনেই এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে, যেখানে গত ১৯ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ থেকে ২৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি এফ-ফিফটিন-ই যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা এবং একটি এ-টেন অ্যাটাক এয়ারক্রাফট হারানোর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া একটি এফ-থার্টি-ফাইভ ও এফ-এইটিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ অন্তত এক ডজন রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে ইরানি হামলায়। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য থাকলেও ইরানের পাহাড়বেষ্টিত অঞ্চলে লুকিয়ে রাখা মোবাইল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলো মার্কিন পাইলটদের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে মার্কিন বিমানগুলোকে নিচু দিয়ে উড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবে ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোর মতে, মার্কিন বিমান বাহিনীর সাফল্য উল্লেখযোগ্য হলেও তা কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব রণক্ষেত্র ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল সীমিত করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেহরান কেবল নিজের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখেনি, বরং ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফল পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি

