ইরানকে বিপদে ফেলতে গিয়ে নিজেই সংকটে ট্রাম্প!

0
ইরানকে বিপদে ফেলতে গিয়ে নিজেই সংকটে ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির কারণে সৃষ্ট সংকটে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট এই অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আহ্বানে মিত্র দেশগুলো খুব একটা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে না। বিশেষ করে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের এই সতর্ক অবস্থান প্রমাণ করে যে ইরানের সঙ্গে সৃষ্ট এই সংকটের কোনো সহজ বা দ্রুত সমাধান আপাতত নেই।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো সম্পর্কে ট্রাম্পের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ন্যাটো একটি আত্মরক্ষামূলক জোট হিসেবে গঠিত হয়েছিল। কোনো একটি সদস্য দেশ নিজের ইচ্ছামতো যুদ্ধ শুরু করে অন্যদের সেখানে টেনে নিয়ে আসবে, এমন কোনো উদ্দেশ্যে এই জোট তৈরি হয়নি। 

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি এবং ন্যাটোর ওপর তার ক্রমাগত চাপ মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে, যার প্রতিফলন এখন হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে দেখা যাচ্ছে।

জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোও এই সংকটে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে। জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতের দায়ভার ন্যাটোর নয়। এমনকি জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস মার্কিন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, আমেরিকার শক্তিশালী নৌবাহিনী যা করতে পারছে না, সেখানে ইউরোপের কয়েকটি রণতরী কী ভূমিকা রাখবে তা স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, এই যুদ্ধ তারা শুরু করেনি, তাই এর দায়ভার নিতেও তারা আগ্রহী নয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা জানালেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। সমুদ্রে মাইন অপসারণের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি এখন চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে, কারণ তাদের প্রথাগত মাইন-সুইপার জাহাজগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্দরে রয়েছে। তবে এই নতুন প্রযুক্তি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

উপসাগরীয় যুদ্ধের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, সমুদ্রসীমা মাইনমুক্ত করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং জটিল একটি প্রক্রিয়া। জেনারেল কার্টার মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৯১ সালে কুয়েত উপকূলে মাইন পরিষ্কার করতে পশ্চিমা দেশগুলোর ৫১ দিন সময় লেগেছিল। বর্তমানে কোনো দেশের নৌবাহিনীই মাইন অপসারণের সক্ষমতায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি, এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রও এই তালিকায় পিছিয়ে আছে। এই কারিগরি সীমাবদ্ধতা এবং মিত্রদের অনীহা মিলে ইরান সংকটকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here