ইবতেদায়িতে শতভাগ, মাধ্যমিকে ৯৯ শতাংশ পাঠ্যবই ছাপার কাজ শেষ

0
ইবতেদায়িতে শতভাগ, মাধ্যমিকে ৯৯ শতাংশ পাঠ্যবই ছাপার কাজ শেষ

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সব স্তরে বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের অগ্রগতির কাজ প্রায় শতভাগের কাছাকাছি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিকের (৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণি) ও মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তর মিলিয়ে পাঠ্যবই মুদ্রণের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৮.৭৬ শতাংশ। এই দুই স্তরে সারাদেশে বই সরবরাহের গড় হারও ৯৫.৪৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি স্তরে সর্বোচ্চ, অর্থাৎ শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১৭ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত ইবতেদায়ি স্তরের মুদ্রণ ও সরবরাহ কাজ ইতোমধ্যে ১০০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আর মাধ্যমিক স্তরেও প্রায় ৯৮.৬২ শতাংশ বই ছাপানোর কাজ শেষ হয়েছে। যা আজ রবিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট সামান্য কিছু বইয়ের মুদ্রণ ও বাঁধাই কাজ আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে। মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরগুলোতে বই পৌঁছানোর কার্যক্রম ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থীরা খুব দ্রুতই তাদের পাঠ্যপুস্তক হাতে পায়।

এনসিটিবির ‘২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ’ সংক্রান্ত সর্বশেষ (১৭ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত) পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিকের (৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণি) ও মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তর মিলিয়ে পাঠ্যবই মুদ্রণের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৮.৭৬ শতাংশ। এই দুই স্তরে সারাদেশে বই সরবরাহের গড় হারও ৯৫.৪৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শতভাগ মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ইবতেদায়ি বইয়ের চিত্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবতেদায়ি স্তরে মোট ৫টি শ্রেণিতে ৩ কোটি ১১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭টি বইয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ বই মুদ্রণ ও বাঁধাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ির প্রথম শ্রেণিতে বই ছিল ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫৫টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫২ লাখ ৩ হাজার ১৭২টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৮টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ৬৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৬টি এবং ইবতেদায়ির পঞ্চম শ্রেণিতে ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৭৬টি বই।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩৫টি প্রেসের মাধ্যমে মোট ৪১ কোটি ৮২ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ফর্মা মুদ্রণের লক্ষ্যমাত্রা সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের অগ্রগতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের বই মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজও সমাপ্তির পথে। ১০২টি প্রেসের মাধ্যমে এই স্তরের সার্বিক মুদ্রণ অগ্রগতি ৯৮.৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৯.৪৮ শতাংশ, ৭ম শ্রেণিতে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৭.৩০ শতাংশ, ৮ম শ্রেণিতে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৭.১৫ শতাংশ এবং ৯ম শ্রেণিতে এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৯৯.৫৮ শতাংশ।

পরিসংখ্যান মতে, মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭টি বইয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৯৬ লাখ ৬ হাজার ৮৫৫টি বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। বাঁধাই কাজ শেষ হয়েছে ৯৮.০৪ শতাংশ বইয়ের। এসব বইয়ের প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) হয়েছে ৯৫.০৫ শতাংশ।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইবতেদায়ি স্তরের বইগুলো বিতরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের ক্ষেত্রে পিডিআই ও ডেলিভারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে মোট বই সরবরাহ হয়েছে ১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩১১টি। অর্থাৎ মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫.৩০ শতাংশ বই সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে।

এনসিটিবি সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্থিতিশীল থাকলে ২২ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট সব বইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, বই মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

সচিব আরও বলেন, কিছু বইয়ের পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়ার প্রয়োজন না হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বই সরবরাহ করা সম্ভব হতো। দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here