ইফতারের পর যে ভুলগুলো আপনার শরীরের বড় ক্ষতি করছে

0
ইফতারের পর যে ভুলগুলো আপনার শরীরের বড় ক্ষতি করছে

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টি অত্যন্ত আনন্দের। তবে ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করতে বা তৃপ্তি পেতে আমরা এমন কিছু কাজ করি, যা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। চিকিৎসকদের মতে, সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। তাই এই সময়ে জীবনযাত্রায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

নিচে এমন কিছু কাজের তালিকা দেওয়া হলো যা ইফতারের পর করা একদম উচিত নয়:

১. দ্রুত গতিতে খাবার খাওয়া
সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার পর ইফতারের সামনে বসলে অনেকেই খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলেন। এটি করলে হজমে সমস্যা, পেটে গ্যাস এবং অস্বস্তি তৈরি হয়। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে না খেলে পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ক্লান্তি ও ঝিমুনি তৈরি করে।

২. অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করা
ইফতারের পরপরই বরফ দেওয়া বা খুব ঠান্ডা পানি পান করা অনেকের অভ্যাস। এটি পাকস্থলীর রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফেলে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর ফলে পেটে ব্যথা বা বদহজম হতে পারে। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

৩. সঙ্গে সঙ্গেই ধূমপান করা
ধূমপায়ীদের অনেকেরই অভ্যাস ইফতার শেষ করেই সিগারেট জ্বালানো। গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে বা খাবারের পরপরই ধূমপান করা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দশ গুণ বেশি ক্ষতিকর। এটি রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৪. চা বা কফি পান করা
ইফতারের পরপরই চা বা কফি পানের অভ্যাস হজমে বিঘ্ন ঘটায়। চায়ে থাকা ‘ট্যানিন’ খাবার থেকে আয়রন বা লোহা শোষণে বাধা দেয়। এতে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। ইফতারের অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর চা পান করা যেতে পারে।

৫. অতিরিক্ত কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম
ইফতারের পর পাকস্থলীতে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় খাবার হজম করার জন্য। এই সময়ে ভারী ব্যায়াম বা দৌড়ঝাঁপ করলে পেশিতে টান লাগতে পারে এবং বমিভাব হতে পারে। হালকা হাঁটাচলা করা গেলেও ভারী কাজ থেকে বিরত থাকাই ভালো।

৬. মিষ্টিজাতীয় ও ভাজাপোড়া খাবারের আধিক্য
ইফতারের পর অনেক বেশি জিলাপি, মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে যায়। এতে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং শরীর আরও বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক চিনি যেমন— খেজুর বা ফল খাওয়া বেশি উপকারী।

৭. ভরপেট খেয়েই ঘুমিয়ে পড়া
ইফতারের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত লাগে, তাই অনেকে শুয়ে পড়েন। কিন্তু খাওয়ার পরপরই ঘুমালে এসিডিটি এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা প্রকট হয়। এছাড়া এটি ওজন বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর ঘুমানো উচিত।

চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থভাবে রোজা সম্পন্ন করতে ইফতারে পর্যাপ্ত তরল, আঁশযুক্ত খাবার ও প্রোটিন রাখুন। একবারে সব না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খাবার খান। ইফতারের পরের কয়েক ঘণ্টা শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান চিকিৎসকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here